ঢাকা ১১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“ছুটি না মেলায় ক্ষোভ! প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক, তদন্তে প্রশাসন”

নিজস্ব সংবাদ :

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
ভেদরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভেতর প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ: তদন্তে মিলবে প্রকৃত সত্য
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ শেখানোর কথা, সেই বিদ্যালয়ের ভেতরেই দুই শিক্ষকের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ শিক্ষা অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক।
প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসতেন এবং প্রায়ই অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতেন। এসব বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করার পরও কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মতবিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুলাই দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করলে ওই দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার নির্ধারিত পরিদর্শন থাকায় প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুর করতে অপারগতা জানান। এরপর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, সহকারী শিক্ষক তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তিনি এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সখিপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যায় বলেন, অসুস্থ সন্তানের কারণে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। ছুটি না পাওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের আচরণের কারণে তিনি মানসিক ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি ছিলেন।
বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বক্তব্যেও কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। কেউ বলেছেন প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে, আবার কেউ বলেছেন উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে প্রশাসনিক তদন্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এদিকে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকরা সমাজের আদর্শ নির্মাতা। তাই বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিরোধ সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হওয়াই কাম্য। কোনো পরিস্থিতিতেই শারীরিক সংঘর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এখন সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্তের দিকে। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

“ছুটি না মেলায় ক্ষোভ! প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে সহকারী শিক্ষক, তদন্তে প্রশাসন”

আপডেট সময় ০২:১১:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ জুলাই ২০২৬

শরীয়তপুর প্রতিনিধি :
ভেদরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভেতর প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ: তদন্তে মিলবে প্রকৃত সত্য
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৮৭ নম্বর আব্বাস আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষকের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। যে প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধ শেখানোর কথা, সেই বিদ্যালয়ের ভেতরেই দুই শিক্ষকের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগ শিক্ষা অঙ্গনের জন্য উদ্বেগজনক।
প্রধান শিক্ষক মো. আলী আসাদ মিয়ার অভিযোগ অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত দেরিতে বিদ্যালয়ে আসতেন এবং প্রায়ই অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করতেন। এসব বিষয়ে একাধিকবার সতর্ক করার পরও কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই মতবিরোধ চলছিল।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২ জুলাই দেলোয়ার হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করলে ওই দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তার নির্ধারিত পরিদর্শন থাকায় প্রধান শিক্ষক ছুটি মঞ্জুর করতে অপারগতা জানান। এরপর কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রধান শিক্ষকের দাবি, সহকারী শিক্ষক তাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। তিনি এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সখিপুর থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ঘটনার সময় বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ক্যামেরায় ঘটনার কিছু অংশ ধারণ হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন অভিযোগের বিষয়ে নিজের ব্যাখ্যায় বলেন, অসুস্থ সন্তানের কারণে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। ছুটি না পাওয়ায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষকের আচরণের কারণে তিনি মানসিক ও পারিবারিক সমস্যার মুখোমুখি ছিলেন।
বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের বক্তব্যেও কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। কেউ বলেছেন প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা ঘটেছে, আবার কেউ বলেছেন উভয় পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। ফলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র নির্ধারণে প্রশাসনিক তদন্তই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এদিকে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, প্রশাসনিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষকরা সমাজের আদর্শ নির্মাতা। তাই বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ যেকোনো বিরোধ সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধান হওয়াই কাম্য। কোনো পরিস্থিতিতেই শারীরিক সংঘর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এখন সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টি প্রশাসনিক ও আইনগত তদন্তের দিকে। তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাই স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন মহলের।