ঢাকা ০৭:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরোপিট ফের দখলের চেষ্টা

নিজস্ব সংবাদ :

মতলব( চাঁদপুর) প্রতিনিধি
মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৎস্য ফিসারী (বরোপিট) দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও নতুন করে উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও পুনরায় দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক পক্ষের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ ঘটনায়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কৃষ্ণপুর গ্রামের জলাশটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আনিছ প্রধানের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (৩০) মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আ. গনি প্রধান, তার ছেলে রাহাত ও জিহাদ’সহ আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জলাশয়ে প্রবেশ করে কচুরিপানা পরিষ্কারের মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে বাদীপক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে আরও জানা যায়, কৃষ্ণপুর মৌজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১২৯, ১৩০, ১৩৩, ১৩৫, ১৩৬, ১৩৮, ৫০২ ও ৪০ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ৬৪ শতাংশ জলাশয়টি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীরা জলাশয়টি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা জলাশয়ের দখল ফিরে পান। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই গণি প্রধানেরা আগের মতো দখলের চেষ্টা শুরু হয়।

তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মামলাও করা হয়েছে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের কোনো বৈধ লিজ না থাকায় জলাশয়টিতে সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুনরায় দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে জলাশয় তারা দখল করবেই। কেউ বাধা দিলে বা থানায় অভিযোগ করলে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একই বরোপিটকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ৭ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং একই বছরের ৫ এপ্রিল হামলা-লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার পর প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নেয়।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল গনি প্রধানের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে এখানে মাছ চাষ করে আসছি। এই ফিসারীর সঙ্গে আমাদের আরও একটি ফিসারী যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লিজ নবায়ন বন্ধ রয়েছে। এখানে আমাদের মাছ রয়েছে। গত বছর আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এখন পানি উন্নয়ন ফেডারেশনের নেতা শামসুদ্দিন খান কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বলেছেন, তাই আমরা পরিষ্কার করছি।
এ বিষয়ে শামসুদ্দিন খান জানান, আমি নিজে উপস্থিত থেকে গত বছর নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলাম। এখন মাছগুলো টিকিয়ে রাখার জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য বলা হয়েছে।

মেঘনা-ধনাগোদা প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন খান বলেন, গত বছর আমরা যে নোটিশ সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, এই জলাশয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ভূমি। মৌজার নাম কৃষ্ণপুর, এল.এ. কেস নং-১০৬/৮২-৮৩।
তিনি আরো বলেন, এখনো সেটি বহাল আছে। কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর শামসুদ্দিন নামে আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ব্যক্তি নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব চাঁদপুর থেকে নিউজ দিচ্ছি আল-আমীন
01648 316529 /

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৫:১২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বরোপিট ফের দখলের চেষ্টা

আপডেট সময় ০৫:১২:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

মতলব( চাঁদপুর) প্রতিনিধি
মতলব উত্তরের গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মৎস্য ফিসারী (বরোপিট) দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধ আবারও নতুন করে উত্তেজনায় রূপ নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে সরকারি নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও পুনরায় দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে এক পক্ষের বিরুদ্ধে।

সর্বশেষ ঘটনায়, বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে কৃষ্ণপুর গ্রামের জলাশটি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আনিছ প্রধানের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার (৩০) মতলব উত্তর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের আ. গনি প্রধান, তার ছেলে রাহাত ও জিহাদ’সহ আরও ৭-৮ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে জলাশয়ে প্রবেশ করে কচুরিপানা পরিষ্কারের মাধ্যমে দখল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। এতে বাধা দিলে বাদীপক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং মারধরের চেষ্টা করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে আরও জানা যায়, কৃষ্ণপুর মৌজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন ১২৯, ১৩০, ১৩৩, ১৩৫, ১৩৬, ১৩৮, ৫০২ ও ৪০ নম্বর দাগভুক্ত প্রায় ৬৪ শতাংশ জলাশয়টি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রভাব খাটিয়ে বিবাদীরা জলাশয়টি জোরপূর্বক ভোগদখল করে আসছিল। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে তারা জলাশয়ের দখল ফিরে পান। তবে কিছুদিন যেতে না যেতেই গণি প্রধানেরা আগের মতো দখলের চেষ্টা শুরু হয়।

তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও মামলাও করা হয়েছে। পরবর্তীতে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ উভয় পক্ষের কোনো বৈধ লিজ না থাকায় জলাশয়টিতে সব ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং সাইনবোর্ড টানিয়ে দেয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুনরায় দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বিবাদীরা প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলে জলাশয় তারা দখল করবেই। কেউ বাধা দিলে বা থানায় অভিযোগ করলে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, একই বরোপিটকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের ৭ মার্চ দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা এবং একই বছরের ৫ এপ্রিল হামলা-লুটপাটের ঘটনাও ঘটে। সেই ঘটনার পর প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর অবস্থান নেয়।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আব্দুল গনি প্রধানের স্ত্রী পারুল বেগম বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে লিজ নিয়ে এখানে মাছ চাষ করে আসছি। এই ফিসারীর সঙ্গে আমাদের আরও একটি ফিসারী যুক্ত রয়েছে। বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লিজ নবায়ন বন্ধ রয়েছে। এখানে আমাদের মাছ রয়েছে। গত বছর আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে গেছে। এখন পানি উন্নয়ন ফেডারেশনের নেতা শামসুদ্দিন খান কচুরিপানা পরিষ্কার করতে বলেছেন, তাই আমরা পরিষ্কার করছি।
এ বিষয়ে শামসুদ্দিন খান জানান, আমি নিজে উপস্থিত থেকে গত বছর নিষেধাজ্ঞার সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলাম। এখন মাছগুলো টিকিয়ে রাখার জন্য কচুরিপানা পরিষ্কার করার জন্য বলা হয়েছে।

মেঘনা-ধনাগোদা প্রকল্পের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পুর)/শাখা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন খান বলেন, গত বছর আমরা যে নোটিশ সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, এই জলাশয়টি বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন ভূমি। মৌজার নাম কৃষ্ণপুর, এল.এ. কেস নং-১০৬/৮২-৮৩।
তিনি আরো বলেন, এখনো সেটি বহাল আছে। কাউকে কোনো ধরনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। আর শামসুদ্দিন নামে আমাদের পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো ব্যক্তি নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মতলব চাঁদপুর থেকে নিউজ দিচ্ছি আল-আমীন
01648 316529 /


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481