গজারিয়ায় মেলা নিয়ে উত্তেজনা: বন্ধের দাবিতে ওলামায়ে কেরামের সংবাদ সম্মেলন, কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা
গজারিয়ায় মেঘনা পাড়ের মেলা ঘিরে উত্তেজনা: বন্ধের দাবিতে ওলামায়ে কেরামের সংবাদ সম্মেলন, শুক্রবার মানববন্ধনের ঘোষণা
মাদক, জুয়া ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা প্রকাশ—প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে পুলিশ
রাজু আহমেদ, স্টাফ রিপোর্টার :
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় মেঘনা নদীর পাড়ে প্রস্তাবিত মেলা বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। সামাজিক অবক্ষয় রোধ, মাদক প্রতিরোধ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করার কথা তুলে ধরে মেলার কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে শুক্রবার মানববন্ধনসহ পরবর্তী সময়ে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আলেমরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাদ মাগরিব গজারিয়া হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গজারিয়া উপজেলার ওলামায়ে কেরামের উদ্যোগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মুফতি ফয়জুল্লাহ। শায়খুল হাদিস আল্লামা হাসান ফারুক (দা.বা.)-এর সভাপতিত্বে এবং মুফতি মইন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, গণমাধ্যমকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা হোসাইন আহমদ ইসহাকী, মুফতি নুরুল আলম ইসহাকী, মাওলানা বেলাল হোসাইন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সাইফী, মুফতি আব্দুল্লাহ মাহবুব কাসেমীসহ উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের খতিব ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বরা।
মেলার আড়ালে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের আশঙ্কা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, মেলা উপলক্ষে মানুষের সমাগমকে কেন্দ্র করে যদি জুয়া, মাদক কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে তা এলাকার সামাজিক পরিবেশ ও তরুণ প্রজন্মের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ, যুবসমাজের নৈতিক বিকাশ এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তাঁদের দাবি, জনসমাগমমূলক কোনো আয়োজনের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা, সামাজিক মূল্যবোধ এবং পরিবেশের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি। মেলার নামে কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হোক, তা তাঁরা চান না।
বক্তারা আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে প্রশাসনের আগাম পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। এ কারণে মেঘনা পাড়ের মেলার কার্যক্রম বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি তাঁরা আহ্বান জানান।
সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপ কামনা
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে শায়খুল হাদিস আল্লামা হাসান ফারুক বলেন, “ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মেঘনা নদীর পাড়ে এরকম গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় অশ্লীল কোনো কাজ আমরা সমর্থন করি না। মেলার আড়ালে এখানে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা এলাকার সামগ্রিক পবিত্রতা নষ্ট করবে।”
তিনি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতনের প্রতি মেলার কার্যক্রম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তাঁর বক্তব্যে মূলত মেলাকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং এলাকার সামাজিক পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
প্রশাসনকে স্মারকলিপি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে পুলিশ
মেলার বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন বলেন, “স্থানীয় ওলামায়ে কেরামরা আমার কাছে এসেছিলেন, একটা আবেদন দিয়েছেন। তবে এখনো তো মেলা শুরু হয় নাই। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।”
পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, মেলা বন্ধের দাবিতে স্থানীয় আলেমরা আবেদন জানিয়েছেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে মেলা শুরু না হওয়ায় এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষা রয়েছে।
দাবি বাস্তবায়ন না হলে মানববন্ধনের ঘোষণা
সংবাদ সম্মেলনে ওলামায়ে কেরামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলার কার্যক্রম বন্ধের দাবি মেনে নেওয়া না হলে শুক্রবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপরও দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে মেলাকে ঘিরে স্থানীয় আলেম-ওলামাদের উদ্বেগ, সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্ন এবং প্রশাসনের করণীয় নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত কী হয়, তা এখন দেখার বিষয়।



















