ঢাকা ০৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেহানা হত্যা: স্বামীসহ ৫ জন আসামি

নিজস্ব সংবাদ :

সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ, ওপরে সবজির চারা!
দুই বছর পর চার্জশিটে রেহানা হত্যার চাঞ্চল্যকর বর্ণনা—স্বামীসহ পাঁচজন আসামি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন ১৩ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান রেহানা পারভীন। প্রায় দুই বছর পর তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটে উঠে এসেছে তার মৃত্যুর ভয়াবহ বিবরণ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ আশুলিয়ার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরপর হত্যার ঘটনা আড়াল করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার এসআই তানভীর হাসান খান।
চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে—আওলাদ হোসাইন, তার দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইনকে।
দেশে ফেরার এক মাসের মধ্যেই পরিণতি
তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা। ২৯ জুন দেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ।
তদন্তে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়, এসব বিরোধের জেরে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
৫ জুলাইয়ের রাত
চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নেওয়া হয়।
সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর আমজাদ তার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আওলাদ রেহানার মুখে বালিশ চেপে ধরেন। পরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে।
মরদেহ গুমের অভিযোগ
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত খুঁড়ে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করার উদ্দেশ্যে সেখানে সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
একজন প্রবাসী নারীর মৃত্যুর পর মরদেহ গোপনের এমন অভিযোগ মামলাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ চার্জশিটটি দেখেছেন। আগামী ১৯ অক্টোবর এটি পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
তবে চার্জশিটে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
রেহানা হত্যার পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, সম্পত্তি বিরোধ কতটা ভূমিকা রেখেছিল এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগে প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার অপেক্ষায়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

রেহানা হত্যা: স্বামীসহ ৫ জন আসামি

আপডেট সময় ০৬:৫৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সেপটিক ট্যাংকের পাশে লাশ, ওপরে সবজির চারা!
দুই বছর পর চার্জশিটে রেহানা হত্যার চাঞ্চল্যকর বর্ণনা—স্বামীসহ পাঁচজন আসামি
নিজস্ব প্রতিবেদক :
অস্ট্রেলিয়া থেকে দেশে ফিরেছিলেন ১৩ বছরের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে। কিন্তু মাত্র এক মাসের মধ্যে নিখোঁজ হয়ে যান রেহানা পারভীন। প্রায় দুই বছর পর তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা চার্জশিটে উঠে এসেছে তার মৃত্যুর ভয়াবহ বিবরণ। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সম্পত্তি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে রেহানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ আশুলিয়ার একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের পাশে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এরপর হত্যার ঘটনা আড়াল করতে ওই স্থানে সবজির চারা লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।
মামলার তদন্ত শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রেহানার স্বামী আওলাদ হোসাইনসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা নবাবগঞ্জ থানার এসআই তানভীর হাসান খান।
চার্জশিটে আসামি করা হয়েছে—আওলাদ হোসাইন, তার দুই বোন পাপিয়া আক্তার ও মাকসুদা বেগম, চাচাতো ভাই কবীর হোসাইন এবং চাচা আমজাদ হোসাইনকে।
দেশে ফেরার এক মাসের মধ্যেই পরিণতি
তদন্ত কর্মকর্তার অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ জুন ১৩ বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে বাংলাদেশে আসেন রেহানা। ২৯ জুন দেশে ফেরেন তার স্বামী আওলাদ।
তদন্তে অস্ট্রেলিয়া ও বাংলাদেশে থাকা সম্পত্তি এবং পারিবারিক বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের পটভূমি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চার্জশিটে দাবি করা হয়, এসব বিরোধের জেরে রেহানাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
৫ জুলাইয়ের রাত
চার্জশিটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ জুলাই সন্ধ্যার পর রেহানাকে আশুলিয়ার নয়ারহাট চৌরাপাড়ায় আওলাদের বোন পাপিয়ার বাসায় নেওয়া হয়।
সেখানে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তাকে মেঝেতে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর আমজাদ তার পা এবং কবীর দুই হাত চেপে ধরেন বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আওলাদ রেহানার মুখে বালিশ চেপে ধরেন। পরে তার মৃত্যু হয়েছে বলে চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে।
মরদেহ গুমের অভিযোগ
চার্জশিটে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার পর ওই রাতেই পাপিয়ার বাড়ির সামনে সেপটিক ট্যাংকের পাশে গর্ত খুঁড়ে রেহানার মরদেহ মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরে ঘটনাটি আড়াল করার উদ্দেশ্যে সেখানে সবজির চারা লাগানো হয়েছিল বলে তদন্তে দাবি করা হয়েছে।
একজন প্রবাসী নারীর মৃত্যুর পর মরদেহ গোপনের এমন অভিযোগ মামলাটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ
ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ চার্জশিটটি দেখেছেন। আগামী ১৯ অক্টোবর এটি পর্যালোচনার জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।
তবে চার্জশিটে উত্থাপিত অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা সাক্ষ্য-প্রমাণ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
রেহানা হত্যার পেছনে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, সম্পত্তি বিরোধ কতটা ভূমিকা রেখেছিল এবং মরদেহ গোপনের অভিযোগে প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার অপেক্ষায়।