ঢাকা ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: সংসদে সমাধান চান রিজভী

নিজস্ব সংবাদ :

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: রাজপথে হুমকি নয়, জবাব চাই পরিকল্পনার!
রিজভীর প্রশ্নে নতুন বিতর্ক—সংকটের দায় কার, কোথায় ভুল পরিকল্পনা, আর জনগণের জন্য সমাধানের নকশা কোথায়?
নিজস্ব অনুসন্ধান
গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই—অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে ভারী হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। কিন্তু সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক বক্তব্যের উত্তাপ বাড়লেও তাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন একটাই—কবে স্বাভাবিক হবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ?
৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রাজপথে আন্দোলনের হুমকির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় সংসদে বিকল্প পরিকল্পনা দিতে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—গ্যাস ও বিদ্যুৎ কোথা থেকে এবং কীভাবে সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা কোথায়?
তদন্তের কেন্দ্রে এখন তিনটি প্রশ্ন
প্রথম প্রশ্ন—বর্তমান সংকটের প্রকৃত কারণ কী?
দ্বিতীয় প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব কতটা, আর দেশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বা পরিকল্পনার দুর্বলতা কতটা?
তৃতীয় প্রশ্ন—সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?
রিজভী বর্তমান সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কথা বলেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অতীতের ভুল পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু অনুসন্ধান এখানেই থেমে থাকতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সংকট—নাকি ঘরোয়া দুর্বলতাও আছে?
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব পড়তেই পারে। কিন্তু সেই প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি কতটা ছিল—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প ব্যবস্থা কী ছিল?
আমদানির উৎস কতটা বৈচিত্র্যময়?
সংরক্ষণ সক্ষমতা কতটা?
চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ পরিকল্পনার সমন্বয় কতটা হয়েছে?
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আগাম কোনো প্রস্তুতি ছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করলেই সংকটের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।
‘ভুল পরিকল্পনা’—কোন পরিকল্পনা?
রিজভীর বক্তব্যে অতীতের ভুল পরিকল্পনার প্রসঙ্গ এসেছে। এখানেই সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানের জায়গা।
যদি সত্যিই অতীতের কোনো পরিকল্পনায় ভুল থেকে থাকে, তাহলে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—কোন পরিকল্পনা, কখন নেওয়া হয়েছিল, কত অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং তার প্রত্যাশিত ফল কতটা পাওয়া গেছে?
কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত না হলে তার কারণ কী?
কোনো সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বেড়ে থাকলে দায় নির্ধারণ হয়েছে কি?
নীতিনির্ধারণের সময় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়—তথ্য, নথি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
রাজপথে কর্মসূচি—গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু এরপর?
রিজভী নিজেও স্বীকার করেছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে কর্মসূচি বা লংমার্চ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তার বক্তব্য হলো, আন্দোলনের পাশাপাশি সংকট সমাধানে বিকল্প পরিকল্পনাও দিতে হবে।
এখানেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—
শুধু ‘সমস্যা আছে’ বলাই কি যথেষ্ট, নাকি ‘সমাধান কী’ সেটিও জনগণকে জানাতে হবে?
সরকারের দায়িত্ব জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং বিকল্প নীতি হাজির করা। আর জনগণের অধিকার হলো—দুই পক্ষের কাছ থেকেই বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা ও পরিকল্পনা দাবি করা।
সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে কারা?
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের রাজনৈতিক অভিঘাত যাই হোক, বাস্তব ক্ষতির বড় অংশ বহন করে সাধারণ মানুষ ও উৎপাদন খাত।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবসা ও শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হলে একইভাবে শিল্প ও অন্যান্য সেবাখাতে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজার, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
তাই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এটি জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি নীতিগত সংকট।
সংসদে কি হবে জবাবদিহির আসল পরীক্ষা?
রিজভীর বক্তব্যে সংসদকে সংকট মোকাবিলার আলোচনার জায়গা হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান এসেছে।
এখন প্রশ্ন—সংসদে কি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হবে, নাকি সেখানে উঠবে নির্দিষ্ট প্রস্তাব?
কত গ্যাস প্রয়োজন?
কত ঘাটতি রয়েছে?
কীভাবে ঘাটতি পূরণ করা হবে?
জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি কীভাবে কমানো হবে?
দেশীয় উৎস ব্যবহারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
আগামী কয়েক বছরের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা হবে?
এই প্রশ্নগুলোর তথ্যভিত্তিক উত্তরই হতে পারে কার্যকর সংসদীয় বিতর্কের ভিত্তি।
দায় চাপানোর রাজনীতি নয়, চাই তথ্যের মুখোমুখি জবাব
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে যেমন জবাবদিহি করতে হবে, তেমনি বিরোধী দলগুলোকেও তাদের বিকল্প পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
‘সংকট আছে’—এটি সবাই বলতে পারে।
কিন্তু ‘সংকট কেন, দায় কোথায় এবং সমাধান কী’—এই তিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই আসল রাজনৈতিক পরীক্ষা।
রিজভীর বক্তব্য সেই পরীক্ষার কথাই নতুন করে সামনে এনেছে।
শেষ কথা
রাজপথের স্লোগান সাময়িক রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু চুলায় গ্যাস, ঘরে বিদ্যুৎ এবং শিল্পে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পৌঁছাতে দরকার পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি।
তাই এখন জনগণের প্রশ্ন—
রাজপথে কে কত বড় কর্মসূচি দিল, সেটি নয়; সংসদে কে কতটা কার্যকর সমাধানের পরিকল্পনা দিল—সেটিই কি হওয়া উচিত আসল মাপকাঠি?
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের রাজনৈতিক বিতর্ক যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত ইতিহাস প্রশ্ন করবে—সংকটের সময় কে দায় চাপিয়েছিল আর কে সমাধানের পথ দেখিয়েছিল?
সেই উত্তরই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় অনুসন্ধান।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: সংসদে সমাধান চান রিজভী

আপডেট সময় ০৬:১৯:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট: রাজপথে হুমকি নয়, জবাব চাই পরিকল্পনার!
রিজভীর প্রশ্নে নতুন বিতর্ক—সংকটের দায় কার, কোথায় ভুল পরিকল্পনা, আর জনগণের জন্য সমাধানের নকশা কোথায়?
নিজস্ব অনুসন্ধান
গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই—অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগে ভারী হচ্ছে রাজনৈতিক অঙ্গন। কিন্তু সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক বক্তব্যের উত্তাপ বাড়লেও তাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন একটাই—কবে স্বাভাবিক হবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ?
৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, রাজপথে আন্দোলনের হুমকির পাশাপাশি গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে জাতীয় সংসদে বিকল্প পরিকল্পনা দিতে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন—গ্যাস ও বিদ্যুৎ কোথা থেকে এবং কীভাবে সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা কোথায়?
তদন্তের কেন্দ্রে এখন তিনটি প্রশ্ন
প্রথম প্রশ্ন—বর্তমান সংকটের প্রকৃত কারণ কী?
দ্বিতীয় প্রশ্ন—আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব কতটা, আর দেশের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা বা পরিকল্পনার দুর্বলতা কতটা?
তৃতীয় প্রশ্ন—সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কী?
রিজভী বর্তমান সংকটের পেছনে বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার কথা বলেছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে আমদানিতে সংকট তৈরি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। একই সঙ্গে তিনি অতীতের ভুল পরিকল্পনার পুনরাবৃত্তি হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কিন্তু অনুসন্ধান এখানেই থেমে থাকতে পারে না।
আন্তর্জাতিক সংকট—নাকি ঘরোয়া দুর্বলতাও আছে?
আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলে আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর তার প্রভাব পড়তেই পারে। কিন্তু সেই প্রভাব মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি কতটা ছিল—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
জ্বালানি সরবরাহে বিকল্প ব্যবস্থা কী ছিল?
আমদানির উৎস কতটা বৈচিত্র্যময়?
সংরক্ষণ সক্ষমতা কতটা?
চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ পরিকল্পনার সমন্বয় কতটা হয়েছে?
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে আগাম কোনো প্রস্তুতি ছিল কি না?
এসব প্রশ্নের উত্তর ছাড়া শুধু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করলেই সংকটের পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না।
‘ভুল পরিকল্পনা’—কোন পরিকল্পনা?
রিজভীর বক্তব্যে অতীতের ভুল পরিকল্পনার প্রসঙ্গ এসেছে। এখানেই সবচেয়ে বড় অনুসন্ধানের জায়গা।
যদি সত্যিই অতীতের কোনো পরিকল্পনায় ভুল থেকে থাকে, তাহলে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে—কোন পরিকল্পনা, কখন নেওয়া হয়েছিল, কত অর্থ ব্যয় হয়েছে এবং তার প্রত্যাশিত ফল কতটা পাওয়া গেছে?
কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়িত না হলে তার কারণ কী?
কোনো সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যতে জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি বেড়ে থাকলে দায় নির্ধারণ হয়েছে কি?
নীতিনির্ধারণের সময় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল?
এসব প্রশ্নের উত্তর রাজনৈতিক বক্তব্যে নয়—তথ্য, নথি ও জবাবদিহির মাধ্যমে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।
রাজপথে কর্মসূচি—গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু এরপর?
রিজভী নিজেও স্বীকার করেছেন, গ্যাস-বিদ্যুতের দাবিতে কর্মসূচি বা লংমার্চ করা বিরোধী দলের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে তার বক্তব্য হলো, আন্দোলনের পাশাপাশি সংকট সমাধানে বিকল্প পরিকল্পনাও দিতে হবে।
এখানেই রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—
শুধু ‘সমস্যা আছে’ বলাই কি যথেষ্ট, নাকি ‘সমাধান কী’ সেটিও জনগণকে জানাতে হবে?
সরকারের দায়িত্ব জনগণকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। বিরোধী দলের দায়িত্ব সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং বিকল্প নীতি হাজির করা। আর জনগণের অধিকার হলো—দুই পক্ষের কাছ থেকেই বাস্তবসম্মত ব্যাখ্যা ও পরিকল্পনা দাবি করা।
সংকটের সবচেয়ে বড় মূল্য দিচ্ছে কারা?
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের রাজনৈতিক অভিঘাত যাই হোক, বাস্তব ক্ষতির বড় অংশ বহন করে সাধারণ মানুষ ও উৎপাদন খাত।
বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হলে ব্যবসা ও শিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হলে একইভাবে শিল্প ও অন্যান্য সেবাখাতে চাপ তৈরি হয়। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত বাজার, কর্মসংস্থান ও মানুষের জীবনযাত্রায় পৌঁছাতে পারে।
তাই গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
এটি জাতীয় অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি নীতিগত সংকট।
সংসদে কি হবে জবাবদিহির আসল পরীক্ষা?
রিজভীর বক্তব্যে সংসদকে সংকট মোকাবিলার আলোচনার জায়গা হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান এসেছে।
এখন প্রশ্ন—সংসদে কি শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য হবে, নাকি সেখানে উঠবে নির্দিষ্ট প্রস্তাব?
কত গ্যাস প্রয়োজন?
কত ঘাটতি রয়েছে?
কীভাবে ঘাটতি পূরণ করা হবে?
জ্বালানি আমদানির ঝুঁকি কীভাবে কমানো হবে?
দেশীয় উৎস ব্যবহারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?
আগামী কয়েক বছরের চাহিদা কীভাবে পূরণ করা হবে?
এই প্রশ্নগুলোর তথ্যভিত্তিক উত্তরই হতে পারে কার্যকর সংসদীয় বিতর্কের ভিত্তি।
দায় চাপানোর রাজনীতি নয়, চাই তথ্যের মুখোমুখি জবাব
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সরকারকে যেমন জবাবদিহি করতে হবে, তেমনি বিরোধী দলগুলোকেও তাদের বিকল্প পরিকল্পনা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
‘সংকট আছে’—এটি সবাই বলতে পারে।
কিন্তু ‘সংকট কেন, দায় কোথায় এবং সমাধান কী’—এই তিন প্রশ্নের উত্তর দেওয়াই আসল রাজনৈতিক পরীক্ষা।
রিজভীর বক্তব্য সেই পরীক্ষার কথাই নতুন করে সামনে এনেছে।
শেষ কথা
রাজপথের স্লোগান সাময়িক রাজনৈতিক উত্তাপ তৈরি করতে পারে। কিন্তু চুলায় গ্যাস, ঘরে বিদ্যুৎ এবং শিল্পে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি পৌঁছাতে দরকার পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, দক্ষ ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি।
তাই এখন জনগণের প্রশ্ন—
রাজপথে কে কত বড় কর্মসূচি দিল, সেটি নয়; সংসদে কে কতটা কার্যকর সমাধানের পরিকল্পনা দিল—সেটিই কি হওয়া উচিত আসল মাপকাঠি?
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের রাজনৈতিক বিতর্ক যতই তীব্র হোক, শেষ পর্যন্ত ইতিহাস প্রশ্ন করবে—সংকটের সময় কে দায় চাপিয়েছিল আর কে সমাধানের পথ দেখিয়েছিল?
সেই উত্তরই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় অনুসন্ধান।