ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আলাদা তদন্ত নয়, জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব সংবাদ :

সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আলাদা তদন্ত নয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পৃথক বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক কোনো তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দেশের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পরিদর্শন ও তদন্তে তার বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত পরিচালনা করে। এসব কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি বা পদকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্বলতা কিংবা বিধিবহির্ভূত লেনদেন হয়েছে কি না, তা যাচাই করাই মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে কোনো অনুসন্ধান চালানোর প্রশ্ন নেই। তবে তদন্ত চলাকালে যদি কোনো ব্যক্তি, পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী বিষয়টি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ নিরীক্ষা বা বাহ্যিক অডিটও পরিচালনা করে। এসব প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ওঠেন। একই সময়ে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের আবেদন জমা পড়েছে। অভিযোগটি গ্রহণের পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের নিয়মিত তদন্ত ও পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা সাবেক পদাধিকারীকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করে নয়; বরং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, আর্থিক নথিপত্র এবং প্রচলিত আইনই হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র ভিত্তি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আলাদা তদন্ত নয়, জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেট সময় ০৯:০৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আলাদা তদন্ত নয়, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পৃথক বা ব্যক্তি-কেন্দ্রিক কোনো তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই বলে স্পষ্ট করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে দেশের কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পরিদর্শন ও তদন্তে তার বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মিললে প্রচলিত আইন অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
রোববার (২৬ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শন, নিরীক্ষা ও তদন্ত পরিচালনা করে। এসব কার্যক্রম কোনো ব্যক্তি বা পদকে লক্ষ্য করে নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অনিয়ম, দুর্বলতা কিংবা বিধিবহির্ভূত লেনদেন হয়েছে কি না, তা যাচাই করাই মূল উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাকে আলাদাভাবে লক্ষ্য করে কোনো অনুসন্ধান চালানোর প্রশ্ন নেই। তবে তদন্ত চলাকালে যদি কোনো ব্যক্তি, পরিচালক বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইন ও বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী বিষয়টি মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এবং প্রয়োজন হলে বিশেষ নিরীক্ষা বা বাহ্যিক অডিটও পরিচালনা করে। এসব প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা দুর্নীতির প্রমাণ মিললে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে, গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। পরদিন তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে ওঠেন। একই সময়ে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্তের আবেদন জমা পড়েছে। অভিযোগটি গ্রহণের পর আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশের আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে তাদের নিয়মিত তদন্ত ও পরিদর্শন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো ব্যক্তি বা সাবেক পদাধিকারীকে বিশেষভাবে লক্ষ্যবস্তু করে নয়; বরং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ, আর্থিক নথিপত্র এবং প্রচলিত আইনই হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণের একমাত্র ভিত্তি।