ঢাকা ০৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা: উচ্ছেদের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

মতলব উত্তর (চাঁদপুর) প্রতিনিধি | রোজ খবর

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা-এর ছেংগারচর বাজারে অবস্থিত শতবর্ষী শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা অবৈধ মিষ্টির কারখানা উচ্ছেদের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মন্দিরের বর্তমান সভাপতি যুধিষ্ঠি বাড়ৈ স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, যা বর্তমানে মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ ও ভক্তদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্দিরের সহ-সভাপতি সুধির দেবনাথ জানান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ বিগত সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপাল দাস ও খগেন্দ্র চক্রবর্তীর মালিকানাধীন দুটি মিষ্টির কারখানা মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কারখানার মাধ্যমে মন্দিরের আয় থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যে মন্দিরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কারখানা সচল রাখতে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দিরের গেট খোলা রাখা হয়, ফলে মন্দির প্রাঙ্গণ মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ বলেন, শ্রমিক ও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের কারণে দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ‘মলম পার্টি’ বা ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়ে নারী ভক্তদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ খোয়া যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জায়গার অভাবে ভক্তরা স্বাভাবিকভাবে পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এবং শব্দদূষণের কারণে প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বর্তমান ও সাবেক কমিটিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বর্তমান কমিটি উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবে এবং এতে কেউ বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ভক্ত ও সচেতন মহলের দাবি, মন্দিরের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:৩০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
৬ বার পড়া হয়েছে

শতবর্ষী মন্দিরে অবৈধ কারখানা: উচ্ছেদের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ

আপডেট সময় ১২:৩০:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা-এর ছেংগারচর বাজারে অবস্থিত শতবর্ষী শ্রী শ্রী কালাচাঁদ বিগ্রহ মন্দির প্রাঙ্গণে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে চলা অবৈধ মিষ্টির কারখানা উচ্ছেদের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

মন্দিরের বর্তমান সভাপতি যুধিষ্ঠি বাড়ৈ স্বাক্ষরিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৭২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন মন্দিরের ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বেআইনিভাবে বাণিজ্যিক কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, যা বর্তমানে মন্দিরের ধর্মীয় পরিবেশ ও ভক্তদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্দিরের সহ-সভাপতি সুধির দেবনাথ জানান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈ বিগত সরকারের আমলে নিয়মবহির্ভূতভাবে গোপাল দাস ও খগেন্দ্র চক্রবর্তীর মালিকানাধীন দুটি মিষ্টির কারখানা মন্দির প্রাঙ্গণে স্থাপন করেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব কারখানার মাধ্যমে মন্দিরের আয় থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। পাশাপাশি কারখানার ধোঁয়া ও বর্জ্যে মন্দিরের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে এবং পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, কারখানা সচল রাখতে গভীর রাত পর্যন্ত মন্দিরের গেট খোলা রাখা হয়, ফলে মন্দির প্রাঙ্গণ মাদকসেবী ও অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।

মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক মনোরঞ্জন দেবনাথ বলেন, শ্রমিক ও বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াতের কারণে দানবাক্স ভেঙে চুরির ঘটনা ঘটছে। এছাড়া ‘মলম পার্টি’ বা ‘অজ্ঞান পার্টি’র খপ্পরে পড়ে নারী ভক্তদের স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ খোয়া যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। জায়গার অভাবে ভক্তরা স্বাভাবিকভাবে পূজা-অর্চনা করতে পারছেন না এবং শব্দদূষণের কারণে প্রার্থনায় বিঘ্ন ঘটছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুকোমল বাড়ৈর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বর্তমান ও সাবেক কমিটিকে নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আদালতের কোনো নিষেধাজ্ঞা না থাকলে বর্তমান কমিটি উন্নয়নমূলক কাজ করতে পারবে এবং এতে কেউ বাধা দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ভক্ত ও সচেতন মহলের দাবি, মন্দিরের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পরিবেশ রক্ষায় দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481