ঢাকা ০৬:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঘরে শুয়েই দেখা যায় আকাশ! আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানবেতর জীবন

মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি | আল আমিন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা-এর সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী মানুষগুলো যেন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর রাতের বেলা শুয়ে থাকলে টিনের ফুটো চালা দিয়ে আকাশের আলো দেখা যায়—এমনই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা চান বানু, পুষ্প রানী, রেজিয়া বেগম, চিহ্ন রানী ও রুনা বেগমসহ অনেকেই জানান, “এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?”—তাদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে হতাশা, ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা।

২০০৭ সালে গৃহহীন ও ছিন্নমূল প্রায় ৬০টি পরিবারের জন্য গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি এখন প্রায় দুই দশক পর চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছয়টি ব্যারাকে নির্মিত অধিকাংশ ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের চালা ফুটো, দরজা-জানালা ভাঙা এবং বেড়ার অবস্থা নাজুক।

বাসিন্দা রবিউল্ল্যা ও হাকিম আলি জানান, ঝড়-বৃষ্টি এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। পলিথিন ও পুরনো কাপড় দিয়ে কোনোভাবে ঘর ঢেকে রাখলেও তাতে খুব একটা কাজ হয় না।

এছাড়া টিউবওয়েল নষ্ট হলে নিজেরাই টাকা তুলে মেরামত করতে হয়। টয়লেট ব্যবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়, পরিবার ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক, শাহাজাহান, মিজান ও হাসন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর সাংবাদিকরা এসে প্রতিবেদন করলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। নতুন আশ্রয়ণ প্রকল্পে উন্নয়ন হলেও পুরনো এই প্রকল্পটি অবহেলিতই থেকে গেছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও অনেকেই বঞ্চিত।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি জহির মোল্লা জানান, ভাঙাচোরা ঘরের কারণে অনেক ইউনিটে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই প্রকল্পে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, প্রকল্পটি নির্মাণের পর একবার সংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় পুনরায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:২৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
২১ বার পড়া হয়েছে

ঘরে শুয়েই দেখা যায় আকাশ! আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানবেতর জীবন

আপডেট সময় ১২:২৩:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা-এর সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী মানুষগুলো যেন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, আর রাতের বেলা শুয়ে থাকলে টিনের ফুটো চালা দিয়ে আকাশের আলো দেখা যায়—এমনই ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন ভুক্তভোগীরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা চান বানু, পুষ্প রানী, রেজিয়া বেগম, চিহ্ন রানী ও রুনা বেগমসহ অনেকেই জানান, “এভাবে কি মানুষ বাঁচতে পারে?”—তাদের কণ্ঠে ফুটে ওঠে হতাশা, ক্ষোভ ও দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা।

২০০৭ সালে গৃহহীন ও ছিন্নমূল প্রায় ৬০টি পরিবারের জন্য গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি এখন প্রায় দুই দশক পর চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, ছয়টি ব্যারাকে নির্মিত অধিকাংশ ঘরই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের চালা ফুটো, দরজা-জানালা ভাঙা এবং বেড়ার অবস্থা নাজুক।

বাসিন্দা রবিউল্ল্যা ও হাকিম আলি জানান, ঝড়-বৃষ্টি এলেই আতঙ্কে থাকতে হয়। পলিথিন ও পুরনো কাপড় দিয়ে কোনোভাবে ঘর ঢেকে রাখলেও তাতে খুব একটা কাজ হয় না।

এছাড়া টিউবওয়েল নষ্ট হলে নিজেরাই টাকা তুলে মেরামত করতে হয়। টয়লেট ব্যবস্থাও অত্যন্ত খারাপ। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়, পরিবার ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম সংকটে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিক, শাহাজাহান, মিজান ও হাসন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবছর সাংবাদিকরা এসে প্রতিবেদন করলেও সমস্যার কোনো স্থায়ী সমাধান হয় না। নতুন আশ্রয়ণ প্রকল্পে উন্নয়ন হলেও পুরনো এই প্রকল্পটি অবহেলিতই থেকে গেছে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও অনেকেই বঞ্চিত।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি জহির মোল্লা জানান, ভাঙাচোরা ঘরের কারণে অনেক ইউনিটে বসবাস করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা এই প্রকল্পে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি জানান, প্রকল্পটি নির্মাণের পর একবার সংস্কার করা হয়েছিল। বর্তমানে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় পুনরায় সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481