ঢাকা ০৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে চাঁদাবাজির দাপট, মূলহোতা মঈনসহ ৭ জন ধরা

রোজখবর ডেস্ক

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন (মঈন)সহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার সকালে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর এ চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-৪ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মঈন উদ্দিন (মঈন), মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)। বাকি দুইজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।

বাসায় হুমকি ও হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল সকালে শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে বাদীর বাসায় গিয়ে অভিযুক্তরা দরজা খুলতে বাধ্য করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে বাদী ও তার স্ত্রীর ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জড়ো করে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয় এবং স্লোগান, গালাগালি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের মালিক ডা. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
৩২ বার পড়া হয়েছে

হাসপাতালে চাঁদাবাজির দাপট, মূলহোতা মঈনসহ ৭ জন ধরা

আপডেট সময় ১২:৩৬:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর শ্যামলীতে অবস্থিত সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতালে চাঁদা দাবির ঘটনায় সাবেক যুবদল নেতা মঈন উদ্দিন (মঈন)সহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

সোমবার সকালে র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চাঞ্চল্যকর এ চাঁদাবাজি মামলার প্রধান অভিযুক্ত মঈন উদ্দিনসহ মোট সাতজনকে র‍্যাব-২ ও র‍্যাব-৪ যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের শেরেবাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয় এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মঈন উদ্দিন (মঈন), মো. ফালান মিয়া (৪২), মো. রুবেল (৪২), মো. সুমন (৩৬) ও মো. লিটন মিয়া (৩৮)। বাকি দুইজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

গত ১১ এপ্রিল সিকেডি হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ইনচার্জ আবু হানিফ শেরেবাংলা নগর থানায় একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করেন। মামলায় মঈন উদ্দিনকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, মঈন ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবিকৃত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা বাদী ও তার পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করে।

বাসায় হুমকি ও হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল সকালে শ্যামলী ৩ নম্বর রোডে বাদীর বাসায় গিয়ে অভিযুক্তরা দরজা খুলতে বাধ্য করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে চাঁদার টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে বাদী ও তার স্ত্রীর ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অভিযুক্তরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন লোক জড়ো করে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেয় এবং স্লোগান, গালাগালি ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে। তারা হাসপাতালের মালিক ডা. কামরুল ইসলামকে উদ্দেশ্য করে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়, যা হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করে।

খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।