জ্বালানি মজুত ও চোরাচালান ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও চোরাচালান রোধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (২৮ মার্চ) সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ জন্য সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে, যাতে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রাখা যায়।
তবে কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল চোরাচালানের ঘটনাও সামনে এসেছে। এসব রোধে চিরুনি অভিযান পরিচালনা ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
চিফ হুইপ আরও জানান, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি দেশে আসার পথে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। বিশেষ করে কেউ যাতে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে এবং কোথাও তেলের দাম বৃদ্ধি না পায়—সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী এ বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করবেন বলে জানা গেছে।
সংসদীয় কার্যক্রম প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের বাধ্য করেছেন সংসদ সদস্যদের নিয়মিতভাবে তথ্য জানাতে, যাতে তারা এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজন করা হবে।
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করা হয় এবং দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা সংসদীয় কমিটিকে অবহিত করেছেন।



















