ঢাকা ০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসিনার সাবেক দুই মুখ্য সচিবের ব্যাংক হিসাব তলব

নিজস্ব সংবাদ :

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই মুখ্য সচিবের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তলব করা ওই দুই মুখ্য সচিব হলেন আবুল কালাম আজাদ ও তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এছাড়া তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার স্ত্রী আফরোজা খান এবং ছেলে সারাফ ইসলামের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে বিএফআইইউ থেকে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের নাম, পিতামাতার নাম, জন্ম তারিখ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, কিংবা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য থাকলে তা দ্রুত বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে। চিঠি পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে আবুল কালাম আজাদকে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ছিলেন।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সেই পদ হারান।

অন্যদিকে তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও সচিব এবং পরবর্তীতে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট তার নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
৭৩ বার পড়া হয়েছে

হাসিনার সাবেক দুই মুখ্য সচিবের ব্যাংক হিসাব তলব

আপডেট সময় ০৩:৩৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই মুখ্য সচিবের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছে। তাদের আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

তলব করা ওই দুই মুখ্য সচিব হলেন আবুল কালাম আজাদ ও তোফাজ্জল হোসেন মিয়া। এছাড়া তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার স্ত্রী আফরোজা খান এবং ছেলে সারাফ ইসলামের ব্যাংক হিসাবের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।

ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যাংকে বিএফআইইউ থেকে পাঠানো চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের নাম, পিতামাতার নাম, জন্ম তারিখ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, তাদের নামে কোনো ব্যাংক হিসাব, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, কিংবা অন্য কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য থাকলে তা দ্রুত বিএফআইইউতে পাঠাতে হবে। চিঠি পাওয়ার তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংকগুলোকে এসব তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে আবুল কালাম আজাদকে ২০২৪ সালের ৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের সময় অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ছিলেন।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জামালপুর-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি সেই পদ হারান।

অন্যদিকে তোফাজ্জল হোসেন মিয়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সাবেক কর্মকর্তা। তিনি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক ও সচিব এবং পরবর্তীতে সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব ছিলেন। পরে ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর তিনি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৭ আগস্ট তার নিয়োগ বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।