ঢাকা ০৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গাজায় থার্মাল অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ, আল জাজিরার অনুসন্ধান

পুড়ে অঙ্গার হয়ে বাতাসে মিশে গেছে’ ২৮৪২ মানুষ

রোজ খবর ডেস্ক

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজারো ফিলিস্তিনির শরীরের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অতি উচ্চ তাপে পুড়ে অঙ্গার হয়ে বাতাসে মিশে সম্পূর্ণ ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছে তারা—এমন দাবি উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির দেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে বা বাষ্পীভূত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১০ আগস্ট গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে হামলার পর ধ্বংসস্তূপে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে ইয়াসমিন মাহানি তার সন্তান সাদের কোনো দেহাবশেষ খুঁজে পাননি। তার ভাষায়, “রক্ত আর মাংসের চিহ্ন ছিল, কিন্তু আমার সন্তানের কোনো অস্তিত্ব পাইনি।”

আল জাজিরার অনুসন্ধান বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজার সিভিল ডিফেন্স অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জনকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এসব ক্ষেত্রে অল্প কিছু দেহাবশেষ ছাড়া সম্পূর্ণ মরদেহ পাওয়া যায়নি।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, লক্ষ্যবস্তু ভবনে বসবাসকারীর সংখ্যা ও উদ্ধার হওয়া মরদেহের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়। কোনো দেহ না পাওয়া গেলে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমা বিস্ফোরণের সময় ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে। এতে মানবদেহের তরল অংশ দ্রুত ফুটে উঠে কোষীয় গঠন ভেঙে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকে-৮৪, বিএলইউ-১০৯ ও জিবিইউ-৩৯ বোমার ব্যবহারও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্রের ব্যবহার গাজায় মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৫:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫৯ বার পড়া হয়েছে

গাজায় থার্মাল অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ, আল জাজিরার অনুসন্ধান

পুড়ে অঙ্গার হয়ে বাতাসে মিশে গেছে’ ২৮৪২ মানুষ

আপডেট সময় ০৫:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে হাজারো ফিলিস্তিনির শরীরের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অতি উচ্চ তাপে পুড়ে অঙ্গার হয়ে বাতাসে মিশে সম্পূর্ণ ‘অদৃশ্য’ হয়ে গেছে তারা—এমন দাবি উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের ফলে প্রায় ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির দেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে বা বাষ্পীভূত হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১০ আগস্ট গাজা শহরের আল-তাবিন স্কুলে হামলার পর ধ্বংসস্তূপে ছেলেকে খুঁজতে গিয়ে ইয়াসমিন মাহানি তার সন্তান সাদের কোনো দেহাবশেষ খুঁজে পাননি। তার ভাষায়, “রক্ত আর মাংসের চিহ্ন ছিল, কিন্তু আমার সন্তানের কোনো অস্তিত্ব পাইনি।”

আল জাজিরার অনুসন্ধান বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে গাজার সিভিল ডিফেন্স অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জনকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে নথিভুক্ত করেছে। এসব ক্ষেত্রে অল্প কিছু দেহাবশেষ ছাড়া সম্পূর্ণ মরদেহ পাওয়া যায়নি।

গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানান, লক্ষ্যবস্তু ভবনে বসবাসকারীর সংখ্যা ও উদ্ধার হওয়া মরদেহের হিসাব মিলিয়ে দেখা হয়। কোনো দেহ না পাওয়া গেলে দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর তাকে ‘বাষ্পীভূত’ হিসেবে ধরা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, থার্মোবারিক বা ভ্যাকুয়াম বোমা বিস্ফোরণের সময় ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রা তৈরি করতে পারে। এতে মানবদেহের তরল অংশ দ্রুত ফুটে উঠে কোষীয় গঠন ভেঙে যেতে পারে।

প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এমকে-৮৪, বিএলইউ-১০৯ ও জিবিইউ-৩৯ বোমার ব্যবহারও উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব অস্ত্রের ব্যবহার গাজায় মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।