ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টি-রেক্সের সত্যিকারের আয়ু ৩৫–৪০ বছর, রাজাদের জীবনকাল বড় ধারণা ছাপিয়ে!

নিজস্ব সংবাদ :

নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে, টি-রেক্সের আয়ু এত দিন ধারণার চেয়ে বেশি ছিল। এই ভয়ঙ্কর মাংসাশী ডাইনোসররা ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারত এবং সেই বয়সে পৌঁছানোর আগে তাদের ওজন ৮ টনের কাছাকাছি হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যানাটমির অধ্যাপক হলি উডওয়ার্ড ও তার দল টি-রেক্সের ১৭টি জীবাশ্মের পায়ের হাড়ের বলয় বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উন্মোচন করেন। আগের গবেষণায় চোখে না পড়া ‘অদৃশ্য’ বলয়গুলো শনাক্ত করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা জানাচ্ছে, টি-রেক্সদের শারীরিক বিকাশ ধীরগতিতে হত। জীবনের প্রথম বড় অংশে তারা মধ্যম আকারের দেহ নিয়ে কাটাত, এবং বয়সের শেষের দিকে খুব দ্রুত বড় হয়ে উঠত। এই কারণে তারা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী শিকার করতে পারত, যা তাদের সময়ে সর্বোচ্চ সফল মাংসাশী প্রাণীতে পরিণত করেছিল।

উডওয়ার্ড বলেন, “টি-রেক্স ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় দীর্ঘ সময় শিকারি হিসেবে সক্রিয় থাকতে পেরেছে। তাই তারা প্রকৃত অর্থে ডাইনোসরদের ‘রাজা’ হয়ে উঠেছিল।”

নতুন গবেষণা ২০০৬ সালের ‘ডুয়েলিং ডাইনোসর’ গবেষণাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, একটি ২০ বছরের ডাইনোসর প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্স। কিন্তু নতুন তথ্য অনুযায়ী, ওই বয়সে টি-রেক্সের বিকাশ এখনও সম্পূর্ণ হতো না এবং সেই জীবাশ্ম আসলে ন্যানোটাইর‌্যানাস প্রজাতির।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণা কেবল টি-রেক্স নয়, সামগ্রিকভাবে ডাইনোসরদের জীবনকাল ও বিকাশ নিয়ে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
১৪৪ বার পড়া হয়েছে

টি-রেক্সের সত্যিকারের আয়ু ৩৫–৪০ বছর, রাজাদের জীবনকাল বড় ধারণা ছাপিয়ে!

আপডেট সময় ১২:৪২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছে, টি-রেক্সের আয়ু এত দিন ধারণার চেয়ে বেশি ছিল। এই ভয়ঙ্কর মাংসাশী ডাইনোসররা ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারত এবং সেই বয়সে পৌঁছানোর আগে তাদের ওজন ৮ টনের কাছাকাছি হতো।

যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা স্টেট ইউনিভার্সিটির অ্যানাটমির অধ্যাপক হলি উডওয়ার্ড ও তার দল টি-রেক্সের ১৭টি জীবাশ্মের পায়ের হাড়ের বলয় বিশ্লেষণ করে এই তথ্য উন্মোচন করেন। আগের গবেষণায় চোখে না পড়া ‘অদৃশ্য’ বলয়গুলো শনাক্ত করতে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

গবেষণা জানাচ্ছে, টি-রেক্সদের শারীরিক বিকাশ ধীরগতিতে হত। জীবনের প্রথম বড় অংশে তারা মধ্যম আকারের দেহ নিয়ে কাটাত, এবং বয়সের শেষের দিকে খুব দ্রুত বড় হয়ে উঠত। এই কারণে তারা বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী শিকার করতে পারত, যা তাদের সময়ে সর্বোচ্চ সফল মাংসাশী প্রাণীতে পরিণত করেছিল।

উডওয়ার্ড বলেন, “টি-রেক্স ধীরে ধীরে বড় হওয়ায় দীর্ঘ সময় শিকারি হিসেবে সক্রিয় থাকতে পেরেছে। তাই তারা প্রকৃত অর্থে ডাইনোসরদের ‘রাজা’ হয়ে উঠেছিল।”

নতুন গবেষণা ২০০৬ সালের ‘ডুয়েলিং ডাইনোসর’ গবেষণাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। তখন ধারণা করা হয়েছিল, একটি ২০ বছরের ডাইনোসর প্রাপ্তবয়স্ক টি-রেক্স। কিন্তু নতুন তথ্য অনুযায়ী, ওই বয়সে টি-রেক্সের বিকাশ এখনও সম্পূর্ণ হতো না এবং সেই জীবাশ্ম আসলে ন্যানোটাইর‌্যানাস প্রজাতির।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণা কেবল টি-রেক্স নয়, সামগ্রিকভাবে ডাইনোসরদের জীবনকাল ও বিকাশ নিয়ে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।