ঢাকা ০১:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানির সময়

জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে বক্তব্য ধৃষ্টতা: তাজুল ইসলাম

নিজস্ব সংবাদ :

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে বক্তব্যকে ধৃষ্টতা হিসেবে দেখা হবে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানির সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে জনগণের জানমাল রক্ষায় জুলাইয়ে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তার কথায় আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন।

পরে মামলার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারীরা ছিলেন নিরস্ত্র মুক্তিকামী। ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলন করেছিলেন তারা। এ ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। কারণ জুলাই চার্টার, জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনটি জাতির মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে বিবেচিত। এই সংগ্রামকে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন বলার ধৃষ্টতা যেন কেউ না দেখায়। এটা মাথায় নিয়ে তাদের (আসামিপক্ষ) আরগুমেন্ট করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের মুক্তির সংগ্রামকে  eKদমন করতে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল। এটি কোনও আইনসম্মত ছিল না। এটি ছিল গণহত্যাকে ফ্যাসিলিটেট করার একটি নির্দেশ বা পরিকল্পনা। কেননা, নিরস্ত্র মানুষকে পাখির মতো মারা হয়েছে। শিশুদের মারা হয়েছে। পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসবই প্রমাণ করে কারফিউ কোনও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ছিল না। কারফিউ ছিল গণহত্যা চালানোর জন্য।

তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় উল্লেখযোগ্য প্রমাণাদির মধ্যে একটি হলো আসামিদের পরস্পরের মধ্যে টেলিফোনে শলাপরামর্শ করা। আন্দোলন দমনে তারা একে-অপরের সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেছেন। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় টেলিফোনে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। এনটিএমসি থেকে তাদের ফোনালাপের রেকর্ড আমরা উদ্ধার করেছি। আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে সারভাইলেন্সের (নজরদারি) কাজ করতো রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠান। অথচ অন্যের জন্য করে রাখা গর্তে নিজেরাই পতিত হয়েছেন। দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা যেমন মানুষের আমলনামা লিখে রাখেন, এনটিএমসিও এই অপরাধীদের আমলনামা লিখে রেখেছিল—যা তারা বুঝতেই পারেননি।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
১৫২ বার পড়া হয়েছে

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানির সময়

জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে বক্তব্য ধৃষ্টতা: তাজুল ইসলাম

আপডেট সময় ০৭:৪০:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন জুলাই আন্দোলনকে অবজ্ঞা করে বক্তব্যকে ধৃষ্টতা হিসেবে দেখা হবে।

মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার শুনানির সময় তিনি এসব কথা বলেন।

ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। শুনানিতে জনগণের জানমাল রক্ষায় জুলাইয়ে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। এ সময় তার কথায় আপত্তি জানায় প্রসিকিউশন।

পরে মামলার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর সাংবাদিকদের বলেন, আন্দোলনকারীরা ছিলেন নিরস্ত্র মুক্তিকামী। ন্যায্য দাবির জন্য আন্দোলন করেছিলেন তারা। এ ব্যাপারে কোনও প্রশ্ন তোলা যাবে না। কারণ জুলাই চার্টার, জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই-আগস্টের আন্দোলনটি জাতির মুক্তির সংগ্রাম হিসেবে বিবেচিত। এই সংগ্রামকে সন্ত্রাসবাদী আন্দোলন বলার ধৃষ্টতা যেন কেউ না দেখায়। এটা মাথায় নিয়ে তাদের (আসামিপক্ষ) আরগুমেন্ট করতে হবে।

তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টের মুক্তির সংগ্রামকে  eKদমন করতে কারফিউ দেওয়া হয়েছিল। এটি কোনও আইনসম্মত ছিল না। এটি ছিল গণহত্যাকে ফ্যাসিলিটেট করার একটি নির্দেশ বা পরিকল্পনা। কেননা, নিরস্ত্র মানুষকে পাখির মতো মারা হয়েছে। শিশুদের মারা হয়েছে। পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। এসবই প্রমাণ করে কারফিউ কোনও শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ছিল না। কারফিউ ছিল গণহত্যা চালানোর জন্য।

তাজুল ইসলাম বলেন, এ মামলায় উল্লেখযোগ্য প্রমাণাদির মধ্যে একটি হলো আসামিদের পরস্পরের মধ্যে টেলিফোনে শলাপরামর্শ করা। আন্দোলন দমনে তারা একে-অপরের সঙ্গে পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করেছেন। সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনাও দিয়েছেন। ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় টেলিফোনে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিলেন তারা। এনটিএমসি থেকে তাদের ফোনালাপের রেকর্ড আমরা উদ্ধার করেছি। আইনগত কর্তৃত্ব ছাড়াই বিরোধী দলকে দমনের উদ্দেশ্যে সারভাইলেন্সের (নজরদারি) কাজ করতো রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠান। অথচ অন্যের জন্য করে রাখা গর্তে নিজেরাই পতিত হয়েছেন। দুই কাঁধে দুই ফেরেশতা যেমন মানুষের আমলনামা লিখে রাখেন, এনটিএমসিও এই অপরাধীদের আমলনামা লিখে রেখেছিল—যা তারা বুঝতেই পারেননি।

এদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে ঘিরে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন কারফিউ দিয়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যার উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বিষয়ে আদেশের জন্য আগামী ১২ জানুয়ারি দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।