ঢাকা ১০:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাদিকে গুলি করে ভারতে ফয়সাল ‘সেলফি’ তুলছে

রোজ খবর ডেস্ক

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর নির্বিঘ্নে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। শুধু পালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সীমান্তের ওপার থেকে সেলফি তুলে তারা যেন নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে। রাজধানীর বুকে এমন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অপরাধীদের নিরাপদে দেশত্যাগ করার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার চরম ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষক মহল ও সাধারণ মানুষ।

হামলার দুই মাস আগে থেকেই হত্যার ছক কষা হয়েছিল। ঘটনার দিন (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে হাদিকে গুলি করার পর রাজধানীতে কোনো চেকপোস্ট বা ব্লক রেইড না থাকায় তারা সহজেই ঢাকা ত্যাগ করে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঘটনার পর পল্টন থেকে মোটরসাইকেলে মিরপুর, সেখান থেকে প্রাইভেটকারে সাভার, গাজীপুর ও কালামপুর হয়ে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছায়। রাত ২টার দিকে ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে তারা ভারতে প্রবেশ করে। সীমান্তে পৌঁছানোর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই তারা ওপারে চলে যেতে সক্ষম হয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে বিজিবি ও দেশের ভেতরে পুলিশ-র‍্যাব থাকার পরও সন্ত্রাসীরা কীভাবে পালায়, তা হতাশাজনক। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, “আমাদের উচিত ছিল আসামিদের কবজায় আনা। শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের ধরতে পারিনি, এটাই বাস্তবতা।”

শুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে ধরতে না পারলেও তাদের পালাতে সহায়তাকারী ও আত্মীয়স্বজনসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। এদের মধ্যে ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু, বান্ধবী মারিয়া, বাইকের মালিক হান্নান এবং সীমান্তে পারাপারে সহায়তাকারী দুই দালাল রয়েছে।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হাদির আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানের কারণেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।

 

রোজ খবর…..


ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
৭৩ বার পড়া হয়েছে

হাদিকে গুলি করে ভারতে ফয়সাল ‘সেলফি’ তুলছে

আপডেট সময় ১০:৩৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করার পর শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর নির্বিঘ্নে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। শুধু পালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সীমান্তের ওপার থেকে সেলফি তুলে তারা যেন নিজেদের শক্তির জানান দিচ্ছে। রাজধানীর বুকে এমন সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে অপরাধীদের নিরাপদে দেশত্যাগ করার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার চরম ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিশ্লেষক মহল ও সাধারণ মানুষ।

হামলার দুই মাস আগে থেকেই হত্যার ছক কষা হয়েছিল। ঘটনার দিন (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে হাদিকে গুলি করার পর রাজধানীতে কোনো চেকপোস্ট বা ব্লক রেইড না থাকায় তারা সহজেই ঢাকা ত্যাগ করে।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, ঘটনার পর পল্টন থেকে মোটরসাইকেলে মিরপুর, সেখান থেকে প্রাইভেটকারে সাভার, গাজীপুর ও কালামপুর হয়ে তারা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছায়। রাত ২টার দিকে ভুটিয়াপাড়া সীমান্ত দিয়ে দালালের মাধ্যমে তারা ভারতে প্রবেশ করে। সীমান্তে পৌঁছানোর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই তারা ওপারে চলে যেতে সক্ষম হয়।

অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমান্তে বিজিবি ও দেশের ভেতরে পুলিশ-র‍্যাব থাকার পরও সন্ত্রাসীরা কীভাবে পালায়, তা হতাশাজনক। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম স্বীকার করেছেন, “আমাদের উচিত ছিল আসামিদের কবজায় আনা। শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের ধরতে পারিনি, এটাই বাস্তবতা।”

শুটার ফয়সাল ও আলমগীরকে ধরতে না পারলেও তাদের পালাতে সহায়তাকারী ও আত্মীয়স্বজনসহ ৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র‍্যাব। এদের মধ্যে ফয়সালের স্ত্রী সামিয়া, শ্যালক শিপু, বান্ধবী মারিয়া, বাইকের মালিক হান্নান এবং সীমান্তে পারাপারে সহায়তাকারী দুই দালাল রয়েছে।

এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেছেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, হাদির আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানের কারণেই তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে ডিবি তদন্ত করছে।

 

রোজ খবর…..