ঢাকা ০৮:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আজান নিয়ে বিতর্কতায় হিন্দুত্ববাদী পুলিশের হাতে মোয়াজ্জিন গ্রেফতার

রোজ খবর ডেস্ক

ভারতে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ইরফান নামের এক মোয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। এর আগে ওই মোয়াজ্জিন অভিযোগ করেছিলেন যে, আজান দেওয়ার সময় পুলিশ তাকে মারধর করেছে। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ ইরফান ভারতের সিভিল লাইনস থানা এলাকার মদিনা মসজিদের মোয়াজ্জিন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইরফান জমিয়ত উলামা-এ-হিন্দের সদস্যদের সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কথা বলছেন এবং এক পুলিশ পরিদর্শককে (ইনস্পেক্টর) ‘গলা কেটে’ হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

সার্কেল অফিসার (সিটি) সিদ্ধার্থ মিশ্র জানান, ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর সরকারি কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইরফানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কয়েকদিন আগে অনুমতি ছাড়া বা উচ্চ শব্দে লাউডস্পিকার বাজানো বন্ধে অভিযানে নামে স্থানীয় পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশ মদিনা মসজিদে যায়। মোয়াজ্জিন ইরফানের অভিযোগ, আজান চলাকালীন কাচ্চি সড়ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনোদ চৌধুরী তাকে ধাক্কা দেন এবং মারধর করেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও তখন ভাইরাল হয়েছিল। এর প্রতিবাদে জমিয়ত উলামা-এ-হিন্দের সদস্যরা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বিচার দাবি করেন।

পুলিশ যখন সেই অভিযোগ তদন্ত করছিল, তখনই ইরফানের হুমকি দেওয়ার নতুন ভিডিওটি সামনে আসে। ভিডিওতে তাকে অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় ইনস্পেক্টরের গলা কেটে ফেলার কথা বলতে শোনা যায়। এরপরই পুলিশ শান্তি ভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ইরফানকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আজানের সময় মোয়াজ্জিনকে মারধরকারী অভিযুক্ত পুলিশ ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ ক্ষোভ প্রকাশ করায় মোয়াজ্জিনকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মোয়াজ্জিন ইরফান পরে শান্তি ভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রোজ খবর…

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:২৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
১০৯ বার পড়া হয়েছে

আজান নিয়ে বিতর্কতায় হিন্দুত্ববাদী পুলিশের হাতে মোয়াজ্জিন গ্রেফতার

আপডেট সময় ১২:২৩:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

ভারতে লাউডস্পিকারে আজান দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কে নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ ইরফান নামের এক মোয়াজ্জিনকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ। এর আগে ওই মোয়াজ্জিন অভিযোগ করেছিলেন যে, আজান দেওয়ার সময় পুলিশ তাকে মারধর করেছে। শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গ্রেপ্তার মোহাম্মদ ইরফান ভারতের সিভিল লাইনস থানা এলাকার মদিনা মসজিদের মোয়াজ্জিন।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে দেখা যায়, ইরফান জমিয়ত উলামা-এ-হিন্দের সদস্যদের সঙ্গে রাগান্বিত হয়ে কথা বলছেন এবং এক পুলিশ পরিদর্শককে (ইনস্পেক্টর) ‘গলা কেটে’ হত্যার হুমকি দিচ্ছেন।

সার্কেল অফিসার (সিটি) সিদ্ধার্থ মিশ্র জানান, ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর সরকারি কর্মচারীকে হুমকি দেওয়া ও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইরফানের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কয়েকদিন আগে অনুমতি ছাড়া বা উচ্চ শব্দে লাউডস্পিকার বাজানো বন্ধে অভিযানে নামে স্থানীয় পুলিশ। অভিযানের সময় পুলিশ মদিনা মসজিদে যায়। মোয়াজ্জিন ইরফানের অভিযোগ, আজান চলাকালীন কাচ্চি সড়ক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বিনোদ চৌধুরী তাকে ধাক্কা দেন এবং মারধর করেন। ওই ঘটনার একটি ভিডিও তখন ভাইরাল হয়েছিল। এর প্রতিবাদে জমিয়ত উলামা-এ-হিন্দের সদস্যরা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বিচার দাবি করেন।

পুলিশ যখন সেই অভিযোগ তদন্ত করছিল, তখনই ইরফানের হুমকি দেওয়ার নতুন ভিডিওটি সামনে আসে। ভিডিওতে তাকে অত্যন্ত উত্তেজিত অবস্থায় ইনস্পেক্টরের গলা কেটে ফেলার কথা বলতে শোনা যায়। এরপরই পুলিশ শান্তি ভঙ্গ ও হুমকির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করে।

ইরফানকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আজানের সময় মোয়াজ্জিনকে মারধরকারী অভিযুক্ত পুলিশ ইনস্পেক্টরের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, অথচ ক্ষোভ প্রকাশ করায় মোয়াজ্জিনকে জেলে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মোয়াজ্জিন ইরফান পরে শান্তি ভঙ্গের মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

রোজ খবর…


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481