প্যাকেজ ঘোষণা এলো ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ, কমেছে খরচের বড় অংশ
ঘোষণা হলো ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ: কমেছে বিমান ভাড়া, শুরু হবে নিবন্ধন ২৪ সেপ্টেম্বর
পবিত্র হজ পালনকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও সেবামুখী করতে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় একটি সাধারণ হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক খবর হলো, আগের বছরের তুলনায় বিমান ভাড়া কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা হজযাত্রীদের মোট ব্যয় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরবের নতুন নীতিমালা ও অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের প্যাকেজগুলো সাজানো হয়েছে। এতে আবাসন, যাতায়াত, খাবার, মিনা-মুজদালিফার তাঁবু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবার মান আরও উন্নত করা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—বাংলাদেশি হজযাত্রীদের নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যময় ও নির্বিঘ্ন হজ নিশ্চিত করা।
সরকারি প্রথম হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। এই প্যাকেজে মক্কার হারাম শরিফের কাছাকাছি এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি উন্নত মানের খাবার, তাঁবু, পরিবহনসহ প্রয়োজনীয় সব সেবা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে কক্ষের মান উন্নীত করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এতে কিছুটা দূরের এলাকায় আবাসনের ব্যবস্থা থাকলেও হজযাত্রীদের যাতায়াতের জন্য বিশেষ বাস ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হবে।
এছাড়া বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সাধারণ হজ প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা। সরকার জানিয়েছে, বেসরকারি কোনো এজেন্সি নির্ধারিত মানের নিচে সেবা দিয়ে প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না। প্রতিটি প্যাকেজে ব্যয়ের খাত এবং সেবার বিবরণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্যও এসেছে নতুন সুবিধা। তারা নিজ নিজ অবস্থানরত দেশ থেকেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ এবং হজের অনুমতিপত্রের আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি সেখান থেকেই সরাসরি সৌদি আরবে যাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন শুরু হবে। প্রাথমিক নিবন্ধনের জন্য জমা দিতে হবে আড়াই লাখ টাকা। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। হজযাত্রীদের পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে।
সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৭ সালের ৮ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সৌদি আরব যাত্রা শুরু হবে এবং চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আশা, বিমান ভাড়া কমানো, উন্নত সেবা নিশ্চিত করা এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের হজ হবে আরও সুশৃঙ্খল, স্বচ্ছ ও যাত্রীবান্ধব। এবার যারা হজ পালনের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সময়মতো নিবন্ধন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা এবং নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।










