জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আহতদের জন্য বড় ঘোষণা, টিউশন ফি নেবে না ঢাবি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের পাশে ঢাবি, টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আহত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করার পাশাপাশি গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী নানা কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আর্থিক বিষয়ক কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত শিক্ষার্থীদের আর কোনো টিউশন ফি পরিশোধ করতে হবে না।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান জানানো এবং তাদের শিক্ষাজীবন যাতে আর্থিক সংকটের কারণে ব্যাহত না হয়, সেই লক্ষ্য থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার প্রতিফলন।
এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে পুরো মাসজুড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকবে নানা আয়োজন। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি আবাসিক হল, অনুষদ, বিভাগ এবং বিভিন্ন একাডেমিক ইউনিটেও পৃথকভাবে অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ, আলোচনা সভা, স্মৃতিচারণ, প্রবন্ধ রচনা, ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিতর্ক প্রতিযোগিতা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, আত্মত্যাগ এবং শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আবাসিক হলেও নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, স্মৃতিচারণ এবং বিশেষ প্রকাশনার আয়োজন করা হয়েছে। কয়েকটি হলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে স্মারক সংকলন প্রকাশের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভাষ্য, এসব কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনাকে স্মরণ করা নয়; বরং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আত্মত্যাগের চেতনা এবং শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতা প্রকাশের মাধ্যম হিসেবেও এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।












