ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ অস্থিরতায় কাঁপছে জ্বালানি বাজার, স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

নিজস্ব সংবাদ :

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব শুধু সাময়িক নয়—বরং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রথমত, এই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় একটি অংশ এখান দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা দেয়। যদিও পরিস্থিতি অনেক সময় দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে, কিন্তু বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় তা সহজে কাটে না।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক-এর ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কারণ শুধু তেল উৎপাদন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হয় না—পরিবহন, বীমা, নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস সবকিছুই এতে জড়িত।
দ্বিতীয়ত, এই সংকট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তেলের বাজার অনেকটাই “মনস্তাত্ত্বিক”—অর্থাৎ ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাতেই দাম বাড়তে পারে। ফলে বাস্তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও মূল্য অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
তৃতীয়ত, বিকল্প রুট বা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়। পাইপলাইন বা নতুন পরিবহন পথ তৈরি করতে সময় ও বড় বিনিয়োগ লাগে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বিশ্বকে এই একই ঝুঁকিপূর্ণ রুটের ওপর নির্ভর করতেই হয়।
চতুর্থত, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্প খাতে খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চাপ তৈরি করে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হয় বা খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করতে হয়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
সবশেষে বলা যায়, হরমুজ প্রণালির সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
১০ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ অস্থিরতায় কাঁপছে জ্বালানি বাজার, স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে

আপডেট সময় ১০:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ঘিরে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার প্রভাব শুধু সাময়িক নয়—বরং দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
প্রথমত, এই প্রণালিটি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান রুট। বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় একটি অংশ এখান দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য বিঘ্নও সরবরাহ শৃঙ্খলে বড় ধাক্কা দেয়। যদিও পরিস্থিতি অনেক সময় দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে, কিন্তু বাজারে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয় তা সহজে কাটে না।
রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক-এর ভাষ্য অনুযায়ী, সংকটের ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কারণ শুধু তেল উৎপাদন বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হয় না—পরিবহন, বীমা, নিরাপত্তা ও লজিস্টিকস সবকিছুই এতে জড়িত।
দ্বিতীয়ত, এই সংকট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ায়। তেলের বাজার অনেকটাই “মনস্তাত্ত্বিক”—অর্থাৎ ভবিষ্যৎ ঝুঁকির আশঙ্কাতেই দাম বাড়তে পারে। ফলে বাস্তবে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও মূল্য অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।
তৃতীয়ত, বিকল্প রুট বা সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহজ নয়। পাইপলাইন বা নতুন পরিবহন পথ তৈরি করতে সময় ও বড় বিনিয়োগ লাগে। ফলে স্বল্পমেয়াদে বিশ্বকে এই একই ঝুঁকিপূর্ণ রুটের ওপর নির্ভর করতেই হয়।
চতুর্থত, এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় এবং শিল্প খাতে খরচ বেড়ে যায়। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় চাপ তৈরি করে।
বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বেড়ে গেলে সরকারকে ভর্তুকি বাড়াতে হয় বা খুচরা পর্যায়ে দাম সমন্বয় করতে হয়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়।
সবশেষে বলা যায়, হরমুজ প্রণালির সংকট কেবল একটি আঞ্চলিক ইস্যু নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481