ঢাকা ০৫:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি দাবি, উত্তেজনা বৃদ্ধি

রোজখবর ডেস্ক

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে মার্কিন নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সেন্টকম জানায়, ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব উপসাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং সমুদ্র মাইন অপসারণ মিশনে অংশ নিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের একটি ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি নিরাপদ নৌপথ তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তবে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর-এর এক মুখপাত্র মার্কিন এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো জাহাজের চলাচল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচল করলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানভিত্তিক সাউথ এশিয়ান স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মারিয়া সুলতান বলেন, যদি মার্কিন জাহাজ সত্যিই প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করে থাকে, তবে তা তেহরানের অনুমতি নিয়েই হয়েছে। তার মতে, ইরানের সম্মতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবহরের অবাধ চলাচল কার্যত অসম্ভব।

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বিরোধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে যাতায়াত করে। ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০১:০০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
৩২ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান পাল্টাপাল্টি দাবি, উত্তেজনা বৃদ্ধি

আপডেট সময় ০১:০০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। প্রণালিতে সমুদ্র মাইন অপসারণে মার্কিন নৌবাহিনী কাজ শুরু করেছে—যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবিকে দ্রুতই নাকচ করেছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সেন্টকম জানায়, ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব উপসাগরে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং সমুদ্র মাইন অপসারণ মিশনে অংশ নিয়েছে।

এক বিবৃতিতে মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতের একটি ‘মোড় ঘোরানো মুহূর্ত’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, খুব শিগগিরই একটি নিরাপদ নৌপথ তৈরি করে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

তবে ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তর-এর এক মুখপাত্র মার্কিন এই দাবিকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো জাহাজের চলাচল ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস আইআরজিসি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালি দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচল করলে তার ‘কঠোর জবাব’ দেওয়া হবে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পাকিস্তানভিত্তিক সাউথ এশিয়ান স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মারিয়া সুলতান বলেন, যদি মার্কিন জাহাজ সত্যিই প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করে থাকে, তবে তা তেহরানের অনুমতি নিয়েই হয়েছে। তার মতে, ইরানের সম্মতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবহরের অবাধ চলাচল কার্যত অসম্ভব।

এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইসলামাবাদ-এ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছিল। এ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, আর ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর এটি দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি বৈঠক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই বিরোধ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাই নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে যাতায়াত করে। ফলে এখানে যেকোনো উত্তেজনা আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।