ঢাকা ০২:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিমানের টিকিট হাতে, দেশে ফেরা হলো না

নিজস্ব সংবাদ :

বিমানের টিকিট হাতে, দেশে ফেরা হলো না
বিমানের টিকিট হাতে, দেশে ফেরা হলো না
সৌদির সড়কে ঝরে গেল ৪ বাংলাদেশির প্রাণ
তায়েফ-জেদ্দা পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা | নিহত সবাই সিলেটের কানাইঘাটের | পরিচয় মিলেছে করিম ও খালিদের, অজ্ঞাত আরও দুজন
দেশে ফেরার প্রস্তুতি শেষ। হাতে বিমানের টিকিট। জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছেই বিমানে ওঠার কথা ছিল। স্বজনদের কাছে ফেরার সেই প্রতীক্ষিত যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো জীবনের শেষ যাত্রায়। সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চার বাংলাদেশি প্রবাসী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন তারা। দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে—করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে সৌদি প্রশাসন ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি কাজ করছে।
ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নিহতরা। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাদের প্রাণ। ফলে যে যাত্রা হওয়ার কথা ছিল স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের, সেটিই হয়ে গেল চিরবিদায়ের যাত্রা।
দুর্ঘটনার খবর কানাইঘাটে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে শোক।
অজ্ঞাত দুজনের পরিচয় শনাক্তই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও বাকি দুজন এখনো অজ্ঞাত। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়—পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, মরদেহ হস্তান্তর এবং দেশে ফেরানোর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনও মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই
আল-খুরমা এলাকায় কীভাবে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ল—এ বিষয়ে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এখনো বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা কিংবা সড়কের কোনো পরিস্থিতিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
একদিকে চারটি পরিবারে শোক, অন্যদিকে প্রবাসজীবনের নির্মম বাস্তবতা—দেশে ফেরার টিকিট হাতে নিয়েও চার বাংলাদেশির আর দেশে ফেরা হলো না। জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই থেমে গেল তাদের পথচলা।

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ বার পড়া হয়েছে

বিমানের টিকিট হাতে, দেশে ফেরা হলো না

আপডেট সময় ১২:৪৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিমানের টিকিট হাতে, দেশে ফেরা হলো না
বিমানের টিকিট হাতে, দেশে ফেরা হলো না
সৌদির সড়কে ঝরে গেল ৪ বাংলাদেশির প্রাণ
তায়েফ-জেদ্দা পথে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা | নিহত সবাই সিলেটের কানাইঘাটের | পরিচয় মিলেছে করিম ও খালিদের, অজ্ঞাত আরও দুজন
দেশে ফেরার প্রস্তুতি শেষ। হাতে বিমানের টিকিট। জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছেই বিমানে ওঠার কথা ছিল। স্বজনদের কাছে ফেরার সেই প্রতীক্ষিত যাত্রাই শেষ পর্যন্ত পরিণত হলো জীবনের শেষ যাত্রায়। সৌদি আরবের তায়েফ থেকে জেদ্দা যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন চার বাংলাদেশি প্রবাসী।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে তায়েফের আল-খুরমা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জেদ্দা বিমানবন্দরের উদ্দেশে একটি গাড়িতে করে যাচ্ছিলেন তারা। দুর্ঘটনায় গাড়ির চালকসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত চারজনেরই বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় বলে স্থানীয় সূত্র ও প্রবাসীদের কাছ থেকে জানা গেছে।
নিহতদের মধ্যে প্রাথমিকভাবে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে—করিম উদ্দিন ও খালিদ মিয়া। অপর দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হয়নি। তাদের পরিচয় শনাক্তে সৌদি প্রশাসন ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি কাজ করছে।
ফেরার আনন্দ মুহূর্তেই শোকে
দীর্ঘ প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন নিহতরা। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তাদের প্রাণ। ফলে যে যাত্রা হওয়ার কথা ছিল স্বজনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের, সেটিই হয়ে গেল চিরবিদায়ের যাত্রা।
দুর্ঘটনার খবর কানাইঘাটে পৌঁছানোর পর স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। সৌদি আরবে থাকা বাংলাদেশি প্রবাসীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে শোক।
অজ্ঞাত দুজনের পরিচয় শনাক্তই এখন বড় চ্যালেঞ্জ
নিহত চারজনের মধ্যে দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হলেও বাকি দুজন এখনো অজ্ঞাত। তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা শুধু আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়—পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ, মরদেহ হস্তান্তর এবং দেশে ফেরানোর পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্যও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কানাইঘাট উপজেলা প্রশাসনও মরদেহ দ্রুত দেশে ফেরাতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার কথা জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য নেই
আল-খুরমা এলাকায় কীভাবে গাড়িটি দুর্ঘটনায় পড়ল—এ বিষয়ে প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এখনো বিস্তারিত ও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে অতিরিক্ত গতি, চালকের অসতর্কতা কিংবা সড়কের কোনো পরিস্থিতিকে দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে চূড়ান্তভাবে উল্লেখ করার সুযোগ নেই।
তদন্তে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় স্বজন ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
একদিকে চারটি পরিবারে শোক, অন্যদিকে প্রবাসজীবনের নির্মম বাস্তবতা—দেশে ফেরার টিকিট হাতে নিয়েও চার বাংলাদেশির আর দেশে ফেরা হলো না। জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই থেমে গেল তাদের পথচলা।