ঢাকা ০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কে বাড়ছে মৃত্যু, মোটরসাইকেলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

নিজস্ব সংবাদ :

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ
নিহতদের এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল আরোহী; ৪৫৮ দুর্ঘটনায় আহত ৬২৯, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা থামছেই না। গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন সড়কে ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু, পথচারী, চালক, সহকারী ও গণপরিবহনের যাত্রী রয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ১৫৯টি দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হন। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক মহাসড়ক, শহরের সড়ক এবং গ্রামীণ সড়কেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়া, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাই ছিল দুর্ঘটনার প্রধান ধরন। সময়ের হিসাবে সকালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। এরপর রাত, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও ভোরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। বিপরীতে বরিশাল বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম। তবে দেশের কোনো অঞ্চলই সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকির বাইরে নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সড়ক খাতে কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, মহাসড়কে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সড়কে প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনা শুধু পরিসংখ্যান বাড়ায় না; প্রতিটি প্রাণহানির সঙ্গে একটি পরিবার হারায় তাদের প্রিয়জনকে। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
প্রথম পাতার জন্য সম্ভাব্য শিরোনাম:
জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ
সড়কে মৃত্যুমিছিল, এক মাসে নিহত ৪১৬
সড়কে বাড়ছে মৃত্যু, মোটরসাইকেলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৫:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬
১ বার পড়া হয়েছে

সড়কে বাড়ছে মৃত্যু, মোটরসাইকেলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৫:০৯:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ
নিহতদের এক-তৃতীয়াংশ মোটরসাইকেল আরোহী; ৪৫৮ দুর্ঘটনায় আহত ৬২৯, নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে সড়ক দুর্ঘটনা থামছেই না। গত জুলাই মাসে দেশের বিভিন্ন সড়কে ৪৫৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৪১৬ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬২৯ জন। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু, পথচারী, চালক, সহকারী ও গণপরিবহনের যাত্রী রয়েছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, মোট নিহতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই মোটরসাইকেল চালক বা আরোহী। সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাম্প্রতিক প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট ১৫৯টি দুর্ঘটনায় ১৩৮ জন নিহত হন। এ ছাড়া জাতীয় মহাসড়কেই সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আঞ্চলিক মহাসড়ক, শহরের সড়ক এবং গ্রামীণ সড়কেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যানবাহন উল্টে যাওয়া, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাই ছিল দুর্ঘটনার প্রধান ধরন। সময়ের হিসাবে সকালে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। এরপর রাত, দুপুর, বিকেল, সন্ধ্যা ও ভোরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দুর্ঘটনা ঘটে।
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে। বিপরীতে বরিশাল বিভাগে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল সবচেয়ে কম। তবে দেশের কোনো অঞ্চলই সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকির বাইরে নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, অতিরিক্ত গতি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, চালকদের অদক্ষতা, ট্রাফিক আইন অমান্য, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, দুর্বল সড়ক অবকাঠামো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতাই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।
পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সড়ক খাতে কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ, মহাসড়কে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন অপসারণ, রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা জোরদার এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া সড়কে প্রাণহানি কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিনের সড়ক দুর্ঘটনা শুধু পরিসংখ্যান বাড়ায় না; প্রতিটি প্রাণহানির সঙ্গে একটি পরিবার হারায় তাদের প্রিয়জনকে। তাই নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
প্রথম পাতার জন্য সম্ভাব্য শিরোনাম:
জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৪১৬ প্রাণ
সড়কে মৃত্যুমিছিল, এক মাসে নিহত ৪১৬
সড়কে বাড়ছে মৃত্যু, মোটরসাইকেলেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি