ঢাকা ১১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

থানায় হাজির হয়ে জানতে চাইলেন ‘খুন হওয়া’ ব্যক্তি

রোজ খবর ডেস্ক

সামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আদালতে তারা ‘খুন’ করার কথা স্বীকারও করেছে, এমনকি পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করার পর সব আইনি প্রক্রিয়াও শেষ। ঠিক এমন সময় থানায় সশরীরে হাজির হলেন সেই ‘খুন হওয়া’ ব্যক্তি! ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে ঘটে যাওয়া এই অভাবনীয় ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়া এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করে হত্যা মামলা চালানোর এই ঘটনাটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর ছত্তিশগড়ের পূর্ণানগর–তুরিতোংরি বনাঞ্চল থেকে পুলিশ একটি অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। জশপুর জেলার সিতোঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা এবং পরিবার মরদেহটি ৩০ বছর বয়সী সীমিত খাখার বলে শনাক্ত করে।

এরপর পুলিশ সীমিতকে হত্যার অভিযোগে রামজিত রাম, বীরেন্দ্র রাম এবং এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পরে শীতল মিনজ ও জিতু রামকেও অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ দাবি করে, অভিযুক্তরা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হত্যার দায় স্বীকারও করেছে।

মামলা যখন কাগজে-কলমে শক্তপোক্ত, ঠিক তখনই গত শনিবার গভীর রাতে ‘নিহত’ সীমিত খাখা স্থানীয় সরপঞ্চের সঙ্গে থানায় হাজির হন। পুলিশকে সীমিত জানান, তিনি কাজের সন্ধানে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানে মোবাইল না থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

থানায় এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে সীমিত বলেন, “আমরা পাঁচজন কাজের সন্ধানে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন আগে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলো না? আমি তো জীবিত! আমার বন্ধুরা বিনা দোষে জেলে পচছে, আমার বাচ্চারা না খেয়ে আছে। জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা—এ কেমন আইন?”

এসডিওপি চন্দ্রশেখর পারমা জানান, পরিবারের শনাক্তকরণ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছিল। এখন যেহেতু সীমিত জীবিত ফিরে এসেছেন, তাই অভিযুক্তদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মামলাটি পুনরায় তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সীমিত যদি জীবিত থাকেন, তবে উদ্ধার হওয়া সেই অর্ধদগ্ধ মরদেহটি কার ছিল? এবং পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছিল, তারা কেন এবং কার চাপে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়েছিল?

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১২:২১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫
১২৫ বার পড়া হয়েছে

থানায় হাজির হয়ে জানতে চাইলেন ‘খুন হওয়া’ ব্যক্তি

আপডেট সময় ১২:২১:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫

সামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, আদালতে তারা ‘খুন’ করার কথা স্বীকারও করেছে, এমনকি পরিবারের সদস্যরা লাশ শনাক্ত করার পর সব আইনি প্রক্রিয়াও শেষ। ঠিক এমন সময় থানায় সশরীরে হাজির হলেন সেই ‘খুন হওয়া’ ব্যক্তি! ভারতের ছত্তিশগড় রাজ্যে ঘটে যাওয়া এই অভাবনীয় ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ব্যবস্থা ও বিচারপ্রক্রিয়া এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে। জীবিত ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করে হত্যা মামলা চালানোর এই ঘটনাটি এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর ছত্তিশগড়ের পূর্ণানগর–তুরিতোংরি বনাঞ্চল থেকে পুলিশ একটি অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে। জশপুর জেলার সিতোঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা এবং পরিবার মরদেহটি ৩০ বছর বয়সী সীমিত খাখার বলে শনাক্ত করে।

এরপর পুলিশ সীমিতকে হত্যার অভিযোগে রামজিত রাম, বীরেন্দ্র রাম এবং এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পরে শীতল মিনজ ও জিতু রামকেও অভিযুক্ত করে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশ দাবি করে, অভিযুক্তরা ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হত্যার দায় স্বীকারও করেছে।

মামলা যখন কাগজে-কলমে শক্তপোক্ত, ঠিক তখনই গত শনিবার গভীর রাতে ‘নিহত’ সীমিত খাখা স্থানীয় সরপঞ্চের সঙ্গে থানায় হাজির হন। পুলিশকে সীমিত জানান, তিনি কাজের সন্ধানে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন এবং সেখানে মোবাইল না থাকায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

থানায় এসে ক্ষোভ প্রকাশ করে সীমিত বলেন, “আমরা পাঁচজন কাজের সন্ধানে গিয়েছিলাম। ফিরে এসে দেখি আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। কেন আগে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলো না? আমি তো জীবিত! আমার বন্ধুরা বিনা দোষে জেলে পচছে, আমার বাচ্চারা না খেয়ে আছে। জীবিত মানুষকে মৃত ঘোষণা—এ কেমন আইন?”

এসডিওপি চন্দ্রশেখর পারমা জানান, পরিবারের শনাক্তকরণ এবং আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছিল। এখন যেহেতু সীমিত জীবিত ফিরে এসেছেন, তাই অভিযুক্তদের মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং মামলাটি পুনরায় তদন্ত করা হচ্ছে।

তবে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে, সীমিত যদি জীবিত থাকেন, তবে উদ্ধার হওয়া সেই অর্ধদগ্ধ মরদেহটি কার ছিল? এবং পুলিশ যাদের গ্রেপ্তার করেছিল, তারা কেন এবং কার চাপে মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়েছিল?