ঢাকা ০১:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জ্বালানি তেল সংকটে চরম দুর্ভোগ, দেশীয় অকটেন নিচ্ছে না সরকার

রোজখবর ডেস্ক

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পেট্রোলপাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল মিলছে না, ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জানা গেছে, সরকার দেশীয় উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে, যা জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ১০ দিন আগে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। অথচ দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পূরণ করে থাকে। এ সিদ্ধান্তে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে, এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, ডিপোগুলোতে অকটেন সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুত ক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে নতুন করে জাহাজে আসা অকটেন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, একদিকে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে মজুত উপচে পড়ার দাবি—এ দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। তারা এটিকে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে বেসরকারি খাতের বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি জানিয়েছে, বিপিসি তেল না নেওয়ায় তাদের ট্যাংকারগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে এবং উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, ফলে বিপিসি বড় অঙ্কের লোকসানে পড়ছে। এ অবস্থায় আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক। বর্তমানে দেশে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে এবং চলতি মাসে মোট আমদানি ৪ লাখ ৭২ হাজার টনে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যের কারণে সৃষ্ট এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
৮ বার পড়া হয়েছে

জ্বালানি তেল সংকটে চরম দুর্ভোগ, দেশীয় অকটেন নিচ্ছে না সরকার

আপডেট সময় ১০:২০:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পেট্রোলপাম্পগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও তেল মিলছে না, ফলে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জানা গেছে, সরকার দেশীয় উৎপাদিত অকটেন ও পেট্রোল সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে, যা জনমনে ক্ষোভ বাড়িয়ে তুলেছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রায় ১০ দিন আগে দেশীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। অথচ দেশের মোট চাহিদার প্রায় ৭৫ শতাংশই স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পূরণ করে থাকে। এ সিদ্ধান্তে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপাকে পড়েছে, এমনকি কিছু প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে, ডিপোগুলোতে অকটেন সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মজুত ক্ষমতা ৫৩ হাজার টন হলেও মজুত রয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টন। এর মধ্যে নতুন করে জাহাজে আসা অকটেন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, একদিকে মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করছে, অন্যদিকে মজুত উপচে পড়ার দাবি—এ দুইয়ের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে। তারা এটিকে সরবরাহ ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন।

এদিকে বেসরকারি খাতের বড় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুপার পেট্রোকেমিক্যাল পিএলসি জানিয়েছে, বিপিসি তেল না নেওয়ায় তাদের ট্যাংকারগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে এবং উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, ফলে বিপিসি বড় অঙ্কের লোকসানে পড়ছে। এ অবস্থায় আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করতে গিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক। বর্তমানে দেশে এক লাখ টনের বেশি ডিজেল মজুত রয়েছে এবং চলতি মাসে মোট আমদানি ৪ লাখ ৭২ হাজার টনে পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনায় অসামঞ্জস্যের কারণে সৃষ্ট এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে জনভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481