সৌদি-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা জোটে নতুন মাত্রা, যুদ্ধবিমান মোতায়েন
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে পাকিস্তানের একটি সামরিক দল যুদ্ধবিমানসহ সৌদি আরবে পৌঁছেছে। দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে এসব যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর দলটি সৌদি আরবের ইস্টার্ন সেক্টরে অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এই মোতায়েনের মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির মান উন্নত করা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এবং সৌদি গণমাধ্যম আল আরাবিয়া জানায়, পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা উভয় দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
পাকিস্তানের পাঠানো সামরিক বহরের মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক জেএফ-১৭ থান্ডার ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান। এছাড়া সামরিক পরিবহন বিমান সি-১৩০ হারকিউলিস, জ্বালানিবাহী আইএল-৭৮ ট্যাঙ্কার এবং এয়ারবোর্ন আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS)-ও মোতায়েন করা হয়েছে, যা আকাশসীমা নজরদারি ও সমন্বয় কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামাবাদে সম্ভাব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা জোরদার করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইরানি প্রতিনিধিদলের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে পাকিস্তান ‘আয়রন এসকর্ট’ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা বা আক্রমণের ঝুঁকি এড়ানো যায়।
এছাড়া পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের আকাশসীমায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানগুলো। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরানের বন্দর আব্বাসের আশপাশের এলাকায় এই নজরদারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা আরও জোরালো করবে।



















