আবারও তেল নিয়ে কারসাজি, লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর চাপ
দেশের ভোজ্যতেলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১২ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে সরকারকে চিঠি দিয়েছে মিলমালিকদের সংগঠন। সরকার অনুমোদন না দিলে বাজারে তেল সরবরাহ বন্ধের হুমকিও দিয়েছে তারা, যা সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, গত বছর নভেম্বর থেকেই ৫-৬টি কোম্পানির সিন্ডিকেটের কারণে ভোজ্যতেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ কমিয়ে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা হয় এবং বাজার থেকে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রায় উধাও হয়ে যায়। একই সঙ্গে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ২১০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ৩৪ টাকা বেশি।
সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া চিঠিতে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম লিটারে ২০৭ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে, যেখানে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত মূল্য ১৯৫ টাকা। এছাড়া ৫ লিটারের বোতলের দাম ৯৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,০২০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৭৬ টাকা থেকে ১৮৫ টাকা এবং পাম তেলের দাম ১৬৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭৭ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে সরকারের অনুমোদন পাওয়ার আগেই নতুন মূল্য কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে ব্যবসায়ীরা। এতে বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানীর নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার ও বাড্ডা গুদারাঘাটসহ বিভিন্ন এলাকায় এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) সারা দেশে অভিযান জোরদার করেছে। সম্প্রতি পরিচালিত ৯টি মোবাইল কোর্টে ১ লাখ ৪২ হাজার ১৭৩ লিটার ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মজুত চিহ্নিত করা হয় এবং সংশ্লিষ্টদের ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, “ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় বাজারে কঠোর তদারকি প্রয়োজন। অনিয়ম করে যারা তেলের দাম বাড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
অন্যদিকে, টিকে গ্রুপের পরিচালক শফিউল আতহার তসলিম আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধিকে মূল্য সমন্বয়ের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম ১১০০ ডলার থেকে বেড়ে ১৩৭০ ডলারে পৌঁছেছে, ফলে কোম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে লোকসানের মুখে রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে রোববার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসবে মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বর্তমান দামই আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই মূল্য বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা নেই।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তারা স্বস্তি পেতে পারেন।

















