ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন

রোজখবর ডেস্ক

হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন MQ-4C Triton নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, শুক্রবার ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির Naval Air Station Sigonella ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। এ সময় এটি ‘কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠায়, যা সাধারণ জরুরি অবস্থার নির্দেশক। সংকেত পাঠানোর পর ড্রোনটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমার দিকে সামান্য অগ্রসর হয়েছিল, যা ঘটনাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এরপর থেকে এর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, যান্ত্রিক ত্রুটি বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এটি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তৃতীয়ত, ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সাইবার হস্তক্ষেপের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

MQ-4C Triton যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত সামুদ্রিক নজরদারি ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। এটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় কৌশলগত নজরদারি পরিচালনা করতে সক্ষম এবং প্রায়ই P-8A Poseidon টহল বিমানের সহায়ক হিসেবে ‘আকাশচর চোখ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের ড্রোন নিয়মিত মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই দিন পর এই ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে এমন ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হলেও এটি ভূপাতিত হয়েছে কি না সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানও এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো দাবি করেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৪:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
১২ বার পড়া হয়েছে

হরমুজ প্রণালির আকাশে নিখোঁজ ২০ কোটি ডলারের মার্কিন ড্রোন

আপডেট সময় ০৪:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

হরমুজ প্রণালির আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন MQ-4C Triton নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, শুক্রবার ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির Naval Air Station Sigonella ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। এ সময় এটি ‘কোড ৭৭০০’ সংকেত পাঠায়, যা সাধারণ জরুরি অবস্থার নির্দেশক। সংকেত পাঠানোর পর ড্রোনটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার আগে ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমার দিকে সামান্য অগ্রসর হয়েছিল, যা ঘটনাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে। এরপর থেকে এর অবস্থান সম্পর্কে আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, যান্ত্রিক ত্রুটি বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে এটি সমুদ্রে বিধ্বস্ত হয়ে থাকতে পারে। দ্বিতীয়ত, আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ড্রোনটি ভূপাতিত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তৃতীয়ত, ইলেকট্রনিক জ্যামিং বা সাইবার হস্তক্ষেপের কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

MQ-4C Triton যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে উন্নত সামুদ্রিক নজরদারি ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০ কোটি ডলারেরও বেশি। এটি দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করে বিস্তৃত সমুদ্র এলাকায় কৌশলগত নজরদারি পরিচালনা করতে সক্ষম এবং প্রায়ই P-8A Poseidon টহল বিমানের সহায়ক হিসেবে ‘আকাশচর চোখ’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের অধীনে উপসাগরীয় অঞ্চলে এ ধরনের ড্রোন নিয়মিত মোতায়েন রয়েছে।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির মাত্র দুই দিন পর এই ঘটনা ঘটায় পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে এমন ঘটনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ড্রোন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করা হলেও এটি ভূপাতিত হয়েছে কি না সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। অন্যদিকে, ইরানও এখন পর্যন্ত এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কোনো দাবি করেনি।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481