এনসিপির সমর্থন নিয়ে
জামায়াতের আপত্তি উপেক্ষা করে পাস হলো জামুকা সংশোধন বিল
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ সংশোধন করে আইনে রূপ দিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে। বিলটি নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হলেও তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিলটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে স্পিকার কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পাসের ঘোষণা দেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বিলটির ওপর আপত্তি জানিয়ে সংসদে দীর্ঘ বক্তব্য দেন। তবে তিনি বিলের কোনো নির্দিষ্ট ধারায় সংশোধনের প্রস্তাব উপস্থাপন না করায় স্পিকার তার আপত্তির বিষয়ে পৃথক ভোট গ্রহণ করেননি।
সংসদের বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে জামায়াতের সংসদ সদস্যরা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করে উল্লেখ করেন, অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিত অবস্থায় পাস হলে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলামকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হবে, যা তাদের মতে রাজনৈতিকভাবে অযৌক্তিক। তারা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর সংজ্ঞা সংশোধনের দাবিও জানান। তাদের দাবি, ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের প্রণীত আইনে এসব রাজনৈতিক দলকে এভাবে চিহ্নিত করা হয়নি এবং রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ।
অন্যদিকে, জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিলটির ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানায়। এতে সংসদে জোট রাজনীতির ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সংসদের বিশেষ কমিটি সুপারিশ করে। জামুকা সংশোধন বিলটি সেই সুপারিশের অংশ হিসেবে সংসদে উত্থাপিত ও পাস হয়।
পাস হওয়া আইনে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে তাদের স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যারা ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে অথবা ভারতের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় সহযোগী—রাজাকার, আলবদর, আলশামস, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী, মুক্তিবাহিনী, বিএলএফ, পুলিশ, ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস (ইপিআর), নৌ কমান্ডো, কিলো ফোর্স ও আনসার সদস্যরাও ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে গণ্য হবেন।
আইনে ‘মুক্তিযুদ্ধ’-এর সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত একটি স্বাধীন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত যুদ্ধকেই মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে গণ্য করা হবে।




















