ঢাকা ০১:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বিপর্যস্ত মতলব উত্তর, লোডশেডিংয়ে চরম জনদুর্ভোগ

নিজস্ব সংবাদ :

আমিনুল ইসলাম আল আমিন:
মতলব উত্তর উপজেলায় গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতে অধিক লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোল্ট্রি খামারি, মৎস্যচাষি, অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চালকসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকরা। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

রবিবার রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মতলব উত্তর জোনাল অফিস জানায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। তাদের তথ্যমতে, চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
জানা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় মতলব উত্তরে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৯০ হাজার, বাণিজ্যিক গ্রাহক ২০ হাজার এবং শিল্প গ্রাহক প্রায় ৪০০ জন।

আব্দুল হক নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাই। সারারাত চার্জে দিয়েও লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো চার্জ হয় না। ফলে দিনে গাড়ি চালাতে পারি না, আয় কমে গেছে।
জোরখালী গ্রামের গৃহিণী সুমি আক্তার বলেন, তীব্র গরমে ছোট দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো যায় না। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ইসলামাবাদ এলাকার এসএসসি পরিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন জানান, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার সময় এভাবে লোডশেডিং হলে আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
নাউরি আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এম.ডি. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বয়ে যাওয়া ঝড়ে মতলব উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০০টি গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

মতলব চাঁদপুর থেকে নিউজ দিচ্ছি আল-আমীন
01648 316529 /

ট্যাগস :

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১১:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
১০ বার পড়া হয়েছে

বিদ্যুৎ ঘাটতিতে বিপর্যস্ত মতলব উত্তর, লোডশেডিংয়ে চরম জনদুর্ভোগ

আপডেট সময় ১১:৪৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

আমিনুল ইসলাম আল আমিন:
মতলব উত্তর উপজেলায় গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে রাতে অধিক লোডশেডিংয়ের কারণে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োজ্যেষ্ঠরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন পোল্ট্রি খামারি, মৎস্যচাষি, অটোরিকশা ও রিকশাভ্যান চালকসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও কারখানা মালিকরা। ফলে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

রবিবার রাত ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মতলব উত্তর জোনাল অফিস জানায়, বর্তমানে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সংকটাপন্ন। তাদের তথ্যমতে, চাহিদা ২২ মেগাওয়াট হলেও বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১২ মেগাওয়াট। ফলে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।
জানা যায়, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর আওতায় মতলব উত্তরে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার ৪০০ গ্রাহক রয়েছেন। এর মধ্যে আবাসিক গ্রাহক ৯০ হাজার, বাণিজ্যিক গ্রাহক ২০ হাজার এবং শিল্প গ্রাহক প্রায় ৪০০ জন।

আব্দুল হক নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, আমি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাই। সারারাত চার্জে দিয়েও লোডশেডিংয়ের কারণে ঠিকমতো চার্জ হয় না। ফলে দিনে গাড়ি চালাতে পারি না, আয় কমে গেছে।
জোরখালী গ্রামের গৃহিণী সুমি আক্তার বলেন, তীব্র গরমে ছোট দুই সন্তান নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো যায় না। বাচ্চারা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
ইসলামাবাদ এলাকার এসএসসি পরিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন জানান, রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। পরীক্ষার সময় এভাবে লোডশেডিং হলে আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়।
নাউরি আহমদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, এ সময় শিক্ষার্থীদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের পড়াশোনায় মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার এম.ডি. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এটি একটি জাতীয় সমস্যা। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বয়ে যাওয়া ঝড়ে মতলব উপজেলার অন্তত ২৫টি গ্রাম লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। এতে প্রায় ২০০টি গ্রাম বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ছিলেন।

মতলব চাঁদপুর থেকে নিউজ দিচ্ছি আল-আমীন
01648 316529 /


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481