ঢাকা ০৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা ঠেকাতে ৭ পদক্ষেপ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

রোজখবর ডেস্ক

ঢাকা: মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা ও হ্যাকিং ঠেকাতে সরকার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস একটি জনপ্রিয় ও সহজ লেনদেন মাধ্যম হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীদের অসতর্কতা, পাসওয়ার্ড শেয়ার, ডিভাইস হ্যাকিং এবং প্রতারকদের নতুন কৌশলের কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, এ ধরনের প্রতারণা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেওয়া হয়েছে ৭টি পদক্ষেপ

প্রতারক চক্র দমনে সরকারের নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো—

প্রথমত, এক এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের সঙ্গে একটিমাত্র মোবাইল হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের মোবাইল নম্বর তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কিনা তা যাচাইয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর সহায়তায় সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পিন নম্বর সুরক্ষা ও প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এসএমএস, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল ও গণমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, এমএফএস এজেন্টদের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চতুর্থত, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এমএফএস প্রোভাইডারদের নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে সমাধান দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চমত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

ষষ্ঠত, পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগের মাধ্যমে ঝুঁকি নিরূপণে নিয়মিত পরিদর্শন চালানো হচ্ছে।

সপ্তমত, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় নিরাপত্তা বাড়াতে সব ব্যাংকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) চালু রয়েছে, যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতারণা কমে আসবে এবং গ্রাহকের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৭:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
১১ বার পড়া হয়েছে

মোবাইল-ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা ঠেকাতে ৭ পদক্ষেপ: সংসদে অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:৩৪:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা: মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ে প্রতারণা ও হ্যাকিং ঠেকাতে সরকার ৭টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস একটি জনপ্রিয় ও সহজ লেনদেন মাধ্যম হিসেবে দ্রুত বিস্তার লাভ করেছে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি নিরাপদ হলেও ব্যবহারকারীদের অসতর্কতা, পাসওয়ার্ড শেয়ার, ডিভাইস হ্যাকিং এবং প্রতারকদের নতুন কৌশলের কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

তিনি জানান, এ ধরনের প্রতারণা রোধে বাংলাদেশ ব্যাংক সক্রিয়ভাবে কাজ করছে এবং পেমেন্ট সিস্টেমের নিরাপত্তা জোরদারে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নেওয়া হয়েছে ৭টি পদক্ষেপ

প্রতারক চক্র দমনে সরকারের নেওয়া প্রধান পদক্ষেপগুলো হলো—

প্রথমত, এক এনআইডির বিপরীতে একটি এমএফএস প্রোভাইডারের সঙ্গে একটিমাত্র মোবাইল হিসাব চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকের মোবাইল নম্বর তার নিজস্ব এনআইডিতে নিবন্ধিত কিনা তা যাচাইয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-এর সহায়তায় সমন্বিত ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, পিন নম্বর সুরক্ষা ও প্রতারণা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এসএমএস, ভয়েস মেসেজ, ইমেইল ও গণমাধ্যমে প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, এমএফএস এজেন্টদের কার্যক্রমে কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অস্বাভাবিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

চতুর্থত, গ্রাহকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এমএফএস প্রোভাইডারদের নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে কেস-টু-কেস ভিত্তিতে সমাধান দেওয়া হচ্ছে।

পঞ্চমত, অভিযোগের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

ষষ্ঠত, পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন বিভাগের মাধ্যমে ঝুঁকি নিরূপণে নিয়মিত পরিদর্শন চালানো হচ্ছে।

সপ্তমত, সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-এ রিপোর্ট করা হচ্ছে এবং এর ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত উদ্যোগ

অর্থমন্ত্রী আরও জানান, অনলাইন ব্যাংকিং সেবায় নিরাপত্তা বাড়াতে সব ব্যাংকে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২এফএ) চালু রয়েছে, যা গ্রাহকের লেনদেনকে আরও সুরক্ষিত করছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব সমন্বিত উদ্যোগের ফলে মোবাইল ব্যাংকিং ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রতারণা কমে আসবে এবং গ্রাহকের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481