ঢাকা ০১:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইলিশের পথে বাধা পলি, ড্রেজিংয়ে মিলবে কি সমাধান?

রোজখবর ডেস্ক

নদীর মোহনায় পলি জমে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের ইলিশ উৎপাদনে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এ উদ্যোগে প্রত্যাশিত সুফল মিলবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশে ইলিশ উৎপাদন সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এ সময় মোট উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ২৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ হাজার টন কম। এর আগে কয়েক বছর উৎপাদনে ধীরগতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও এবার সেই ধারা ভেঙে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত আবহাওয়া, অতিরিক্ত আহরণ এবং নদীপথে প্রতিবন্ধকতা—সব মিলিয়ে ইলিশের প্রজনন ও অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ ডিম ছাড়ার মৌসুমে সাগর থেকে নদীতে উঠে আসে এবং প্রজনন শেষে আবার সাগরে ফিরে যায়। কিন্তু মেঘনা নদী ও তেতুলিয়া নদী-এর মোহনায় ব্যাপক পলি জমে এই স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। নদীপথে গড়ে ওঠা অন্তত ২৫টি চর এখন ইলিশের চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মেঘনা-তেতুলিয়া মোহনায় প্রায় ৮৮ কোটি টন পলি জমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশ চলাচলের জন্য নদীর গভীরতা ৫ থেকে ১০ মিটার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় তা কমে ২ থেকে ৩ মিটারে নেমে এসেছে, যা অভিবাসনে বড় বাধা তৈরি করছে।

পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন রুটে খনন কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—মেঘনা মোহনায় ২০ কিলোমিটার, তেতুলিয়া মোহনায় ১০ কিলোমিটার, আন্ধারমানিক নদীতে ১০ কিলোমিটার এবং উজানের মেঘনা অংশে ১০ কিলোমিটার।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, শুধু মেঘনা মোহনার অংশেই প্রায় ৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে যথাযথ পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া ড্রেজিং করলে তা উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

তাদের মতে, ইলিশ চলাচলে নতুন বাধা তৈরি হলে মাছ উজানে না উঠে আবার সাগরে ফিরে যেতে পারে, যা উৎপাদনে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং না থাকলে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

উল্লেখ্য, দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে ভোলা অঞ্চল থেকে। ফলে এই রুটগুলো সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান বাস্তবতায় ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
১৪ বার পড়া হয়েছে

ইলিশের পথে বাধা পলি, ড্রেজিংয়ে মিলবে কি সমাধান?

আপডেট সময় ১০:৫১:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬

নদীর মোহনায় পলি জমে ইলিশের স্বাভাবিক চলাচলের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের ইলিশ উৎপাদনে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাজার কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে এ উদ্যোগে প্রত্যাশিত সুফল মিলবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ মৌসুমে দেশে ইলিশ উৎপাদন সাত বছরের মধ্যে সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। এ সময় মোট উৎপাদন হয়েছে ৫ দশমিক ২৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪২ হাজার টন কম। এর আগে কয়েক বছর উৎপাদনে ধীরগতির ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকলেও এবার সেই ধারা ভেঙে গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত আবহাওয়া, অতিরিক্ত আহরণ এবং নদীপথে প্রতিবন্ধকতা—সব মিলিয়ে ইলিশের প্রজনন ও অভিবাসন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইলিশ ডিম ছাড়ার মৌসুমে সাগর থেকে নদীতে উঠে আসে এবং প্রজনন শেষে আবার সাগরে ফিরে যায়। কিন্তু মেঘনা নদী ও তেতুলিয়া নদী-এর মোহনায় ব্যাপক পলি জমে এই স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। নদীপথে গড়ে ওঠা অন্তত ২৫টি চর এখন ইলিশের চলাচলে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, মেঘনা-তেতুলিয়া মোহনায় প্রায় ৮৮ কোটি টন পলি জমেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইলিশ চলাচলের জন্য নদীর গভীরতা ৫ থেকে ১০ মিটার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু অনেক এলাকায় তা কমে ২ থেকে ৩ মিটারে নেমে এসেছে, যা অভিবাসনে বড় বাধা তৈরি করছে।

পরিস্থিতি উন্নয়নে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার ড্রেজিং প্রকল্প বিবেচনায় রয়েছে। এতে চারটি গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসন রুটে খনন কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—মেঘনা মোহনায় ২০ কিলোমিটার, তেতুলিয়া মোহনায় ১০ কিলোমিটার, আন্ধারমানিক নদীতে ১০ কিলোমিটার এবং উজানের মেঘনা অংশে ১০ কিলোমিটার।

বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, শুধু মেঘনা মোহনার অংশেই প্রায় ৪ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে যথাযথ পরিবেশগত মূল্যায়ন ছাড়া ড্রেজিং করলে তা উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

তাদের মতে, ইলিশ চলাচলে নতুন বাধা তৈরি হলে মাছ উজানে না উঠে আবার সাগরে ফিরে যেতে পারে, যা উৎপাদনে আরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ড্রেজিং না থাকলে প্রকল্পের সুফল দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

উল্লেখ্য, দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ আসে ভোলা অঞ্চল থেকে। ফলে এই রুটগুলো সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান বাস্তবতায় ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা ছাড়া কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন হতে পারে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481