ঢাকা ০৭:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০০৯ থেকে মানবতার পথচলা: ‘ভালো কাজের হোটেল’ এক অনন্য উদ্যোগ

শহিদুল ইসলাম খোকন

ভিক্ষা নয়, সম্মানের সঙ্গে কাজের বিনিময়ে খাবার—এই ব্যতিক্রমী ধারণা নিয়েই ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে ‘ভালো কাজের হোটেল’। দীর্ঘ সময়ের পথচলায় এটি শুধু খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নয়, বরং আত্মমর্যাদা রক্ষার এক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় পরিচালিত এই উদ্যোগে প্রতিদিনই ভিড় করেন অসংখ্য ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। এখানে কেউ ভিক্ষা করেন না; বরং ছোট ছোট ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদের খাবার অর্জন করেন।

কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা শাহ আলম জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল—কেউ যেন না খেয়ে না থাকে, তবে সহায়তাটা হতে হবে সম্মানজনকভাবে। তাই যারা এখানে আসেন, তারা রাস্তা পরিষ্কার করা, গাছ লাগানো কিংবা আশপাশের পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজ করেন এবং এর বিনিময়ে একবেলা খাবার পান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বহু মানুষ স্বেচ্ছায় এসব কাজে অংশ নিচ্ছেন। কেউ ময়লা পরিষ্কার করছেন, কেউ বৃদ্ধদের সহায়তা করছেন—আর কাজ শেষে পরিপাটি পরিবেশে বসে খাচ্ছেন তৃপ্তির খাবার। এই দৃশ্য যেন মানবতার এক জীবন্ত উদাহরণ।

একজন কিশোর সুবিধাভোগী জানায়, আগে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো। এখন এখানে এসে কাজ করে খাবার খেতে পারে—যা তাকে আত্মসম্মান ও স্বস্তি দেয়।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ‘ভালো কাজের হোটেল’ শুধু দানমূলক কার্যক্রম নয়; এটি একটি সচেতন সামাজিক উদ্যোগ, যা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও কর্মপ্রেরণা তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দারিদ্র্য বিমোচনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। কেউ অর্থ সহায়তা করছেন, কেউ খাবার প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। ফলে এটি এখন একটি শক্তিশালী সামাজিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে।

শেষ কথা:
২০০৯ সালে শুরু হওয়া এই ছোট উদ্যোগ আজ এক অনুপ্রেরণার নাম। ‘ভালো কাজের হোটেল’ দেখিয়ে দিয়েছে—সহায়তা মানেই করুণা নয়; সম্মান বজায় রেখেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৫:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬
৪০ বার পড়া হয়েছে

২০০৯ থেকে মানবতার পথচলা: ‘ভালো কাজের হোটেল’ এক অনন্য উদ্যোগ

আপডেট সময় ০৫:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬

ভিক্ষা নয়, সম্মানের সঙ্গে কাজের বিনিময়ে খাবার—এই ব্যতিক্রমী ধারণা নিয়েই ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে ‘ভালো কাজের হোটেল’। দীর্ঘ সময়ের পথচলায় এটি শুধু খাদ্য সহায়তার উদ্যোগ নয়, বরং আত্মমর্যাদা রক্ষার এক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

রাজধানীর কাওরান বাজার এলাকায় পরিচালিত এই উদ্যোগে প্রতিদিনই ভিড় করেন অসংখ্য ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষ। এখানে কেউ ভিক্ষা করেন না; বরং ছোট ছোট ভালো কাজের মাধ্যমে নিজেদের খাবার অর্জন করেন।

কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা শাহ আলম জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল—কেউ যেন না খেয়ে না থাকে, তবে সহায়তাটা হতে হবে সম্মানজনকভাবে। তাই যারা এখানে আসেন, তারা রাস্তা পরিষ্কার করা, গাছ লাগানো কিংবা আশপাশের পরিবেশ রক্ষণাবেক্ষণের মতো কাজ করেন এবং এর বিনিময়ে একবেলা খাবার পান।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন বহু মানুষ স্বেচ্ছায় এসব কাজে অংশ নিচ্ছেন। কেউ ময়লা পরিষ্কার করছেন, কেউ বৃদ্ধদের সহায়তা করছেন—আর কাজ শেষে পরিপাটি পরিবেশে বসে খাচ্ছেন তৃপ্তির খাবার। এই দৃশ্য যেন মানবতার এক জীবন্ত উদাহরণ।

একজন কিশোর সুবিধাভোগী জানায়, আগে অনেক সময় না খেয়ে থাকতে হতো। এখন এখানে এসে কাজ করে খাবার খেতে পারে—যা তাকে আত্মসম্মান ও স্বস্তি দেয়।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ‘ভালো কাজের হোটেল’ শুধু দানমূলক কার্যক্রম নয়; এটি একটি সচেতন সামাজিক উদ্যোগ, যা মানুষের মধ্যে আত্মবিশ্বাস, দায়িত্ববোধ ও কর্মপ্রেরণা তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দারিদ্র্য বিমোচনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হয়েছেন। কেউ অর্থ সহায়তা করছেন, কেউ খাবার প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ স্বেচ্ছাশ্রম দিচ্ছেন। ফলে এটি এখন একটি শক্তিশালী সামাজিক প্ল্যাটফর্মে রূপ নিয়েছে।

শেষ কথা:
২০০৯ সালে শুরু হওয়া এই ছোট উদ্যোগ আজ এক অনুপ্রেরণার নাম। ‘ভালো কাজের হোটেল’ দেখিয়ে দিয়েছে—সহায়তা মানেই করুণা নয়; সম্মান বজায় রেখেও মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481