এনসিএ জানায়, বুধবার ডোভার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক একটি লরি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় লরিটির ভেতর থেকে ২৩ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আগে থেকেই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠিত চক্রের ওপর নজর রাখছিল।
লরিতে ২৩ বাংলাদেশি পাচারের চেষ্টা: যুক্তরাজ্যে মূলহোতাসহ পাঁচজন আটক
যুক্তরাজ্য থেকে অবৈধভাবে ২৩ জন বাংলাদেশিকে লরির মাধ্যমে পাচারের চেষ্টার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ। এই ঘটনায় একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)।
এনসিএ জানায়, বুধবার ডোভার ফেরিঘাটের দিকে যাওয়ার সময় সন্দেহজনক একটি লরি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় লরিটির ভেতর থেকে ২৩ জন বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আগে থেকেই মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি সংগঠিত চক্রের ওপর নজর রাখছিল।
এনসিএর তথ্যমতে, উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে ২২ জন বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছিলেন। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একজনকে অভিবাসন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তের অংশ হিসেবে লন্ডনের নিউ ক্রস এলাকা থেকে ৪৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে এই পাচারচক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় ৩০ হাজার পাউন্ড নগদ অর্থ জব্দ করা হয়।
এছাড়া ৪৩ থেকে ৫৫ বছর বয়সী আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লন্ডন থেকে কেন্টের হুইটস্টেবল এলাকার আশপাশে ট্যাক্সি চালিয়ে পাচার কার্যক্রমে সহায়তা করছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই ঘটনায় লরির চালক ৩২ বছর বয়সী এক রোমানিয়ান পাসপোর্টধারীকেও আটক করা হয়েছে।
এনসিএ জানায়, এই অপরাধী চক্রটি মূলত বাংলাদেশি ও পাকিস্তানি নাগরিকদের লরির মাধ্যমে যুক্তরাজ্য থেকে বাইরে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, যাতে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রান্সে প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ এড়িয়ে যাওয়া যায়।
এনসিএর শাখা কমান্ডার সাজু সাসিকুমার বলেন, “মানুষ পাচারের সঙ্গে জড়িত সংঘবদ্ধ চক্রগুলো যাদের তারা পরিবহন করে, তাদের জীবন ও নিরাপত্তাকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স উভয় দেশের সীমান্ত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”
তিনি আরও জানান, সংঘবদ্ধ অভিবাসন অপরাধ দমন এনসিএর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এই তদন্তটি বর্তমানে চলমান প্রায় ১০০টি মানব পাচারবিরোধী তদন্তের একটি। এমন প্রেক্ষাপটেই এই ঘটনা সামনে এলো, যখন গত বছরের নভেম্বরে এনসিএ সতর্ক করেছিল যে পাচারকারী চক্রগুলো বৈধ পণ্যবাহী লরির আড়ালে মানুষ পারাপারের জন্য চালকদের টার্গেট করছে।
পুলিশ জানায়, চালকদের হাজার হাজার পাউন্ডের প্রলোভন দেখিয়ে এই অবৈধ কার্যক্রমে যুক্ত করা হচ্ছে। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবরের মধ্যে কেন্ট এলাকায় মানব পাচার সংক্রান্ত অভিযোগে নয়জন লরি চালককে গ্রেপ্তার করে এনসিএ।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

















