গ্রিনল্যান্ড সংকটে আপাত ইতি, ট্রাম্পের হুমকিতে ন্যাটোর ভিত নড়ে গেল
মাত্র দুই সপ্তাহের চরম উত্তেজনা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনের পর গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটের আপাত অবসান হতে যাচ্ছে। ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানের সাফল্যে উজ্জীবিত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ করেই গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা দাবি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিলে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে–এর কৌশলী মধ্যস্থতায় উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামছে বলে আভাস মিলেছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ওয়াশিংটন সফরের পর একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা এই সংকটের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
কূটনৈতিক সূত্রে গুঞ্জন, গ্রিনল্যান্ডের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ডেনমার্ক সীমিত সার্বভৌমত্ব শিথিল করে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দিতে পারে। অনেকটা সাইপ্রাসে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটির আদলেই এই ব্যবস্থার চিন্তা চলছে বলে জানা যাচ্ছে।
ট্রাম্প এই সমঝোতার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদের ওপর প্রভাব বিস্তারের ইঙ্গিত দিলেও ন্যাটো আনুষ্ঠানিকভাবে তা স্বীকার করেনি। জোটটির বক্তব্য, মূল লক্ষ্য আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের প্রভাব ঠেকানো। তবে বিশ্লেষকদের মতে, একটি সীমিত আলোচনায় সমাধানযোগ্য বিষয়কে ট্রাম্প যেভাবে পুরো ন্যাটো জোটের ঐক্য ও অস্তিত্বের সামনে প্রশ্নচিহ্ন বানিয়েছেন, তা ইউরোপীয় মিত্ররা সহজে ভুলতে পারছে না।
এই উত্তেজনার প্রতিক্রিয়ায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি একে বৈশ্বিক ব্যবস্থার “অপূরণীয় বিচ্ছেদ” হিসেবে আখ্যা দেন। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেন ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন।
আপাতদৃষ্টিতে পরিস্থিতি শান্ত হলেও আটলান্টিকের দুই পাড়ের দীর্ঘদিনের মিত্রতার সম্পর্ক যে গভীর ফাটলের মুখে পড়েছে, তা এখন স্পষ্ট। এই ফাটল মেরামত করাই ন্যাটো ও পশ্চিমা জোটের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: বিবিসি




















