ডা. মুবিন বলেন, মতলবের মানুষ ও মাটির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি আরও জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে। একজন শপথের কর্মী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চাঁদপুর–২ আসনে জোটের একক প্রার্থী চূড়ান্ত জামায়াত ও এবি পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাহার
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি:
চাঁদপুর–২ (মতলব উত্তর–মতলব দক্ষিণ) সংসদীয় আসনে ১০ দলীয় জোটের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। জোটের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. আব্দুল মুবিন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)-র প্রার্থী রাশিদা আক্তার মিতু তাদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন। উভয় প্রার্থীই জানান, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ও জোটের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে চাঁদপুর–২ আসনে জোট রাজনীতিকে ঘিরে চলমান আলোচনা ও জল্পনার অবসান ঘটে।
মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জামায়াত প্রার্থী ডা. আব্দুল মুবিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি লেখেন,
“আলহামদুলিল্লাহ। মাঠের নেতা-কর্মী, সহযোদ্ধা, শুভানুধ্যায়ী ও সাহচর্যিদের প্রতি সশ্রদ্ধ সালাম, কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা।”
ডা. মুবিন বলেন, মতলবের মানুষ ও মাটির কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসাই তার রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। তিনি আরও জানান, মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি কেন্দ্রীয়ভাবে জানানো হয়েছে। একজন শপথের কর্মী হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনী দৌড় থেকে সরে দাঁড়ালেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে বলে জানান এই জামায়াত নেতা। তার ভাষায়, আল্লাহ যে পরিসরে সুযোগ দেবেন, সেখানেই তিনি মতলবাসীর পাশে থাকবেন।
অন্যদিকে, এবি পার্টির প্রার্থী রাশিদা আক্তার মিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ঘোষণায় জানান, দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি চাঁদপুর–২ আসনে তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন। জোটের বৃহত্তর স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জামায়াত ও এবি পার্টির প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পর ১০ দলীয় জোটের একক ও চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলাদেশ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)-র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি (ছাতা প্রতীক)। ফলে এই আসনে জোটের পক্ষ থেকে আর কোনো বিভাজনমূলক প্রার্থী থাকছে না।
এলডিপির নেতারা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত জোটের ঐক্যকে আরও সুদৃঢ় করবে এবং সমন্বিত নির্বাচনী প্রচারণার পথ খুলে দেবে।
এ বিষয়ে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজি বলেন,
“জোটের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে। জামায়াত ও এবি পার্টির নেতৃবৃন্দ যে ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তা রাজনৈতিক শৃঙ্খলা ও ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।”
স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ডা. মুবিনের মনোনয়ন প্রত্যাহার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তৃণমূল পর্যায়ে কিছুটা হতাশা থাকলেও অনেকেই এটিকে জোটের স্বার্থে নেওয়া একটি কঠিন কিন্তু শৃঙ্খলাবদ্ধ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত চাঁদপুর–২ আসনের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও স্পষ্ট ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করেছে।




















