ঢাকা ০৩:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গাজায় সেনা মোতায়েন নিয়ে মুখোমুখি ইসরায়েল-তুরস্ক

নিজস্ব সংবাদ :

গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্ক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গাজায় সেনা মোতায়েনের বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলেই রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসনে তুরস্ক বা কাতারের কোনো প্রভাব কিংবা সেনা উপস্থিতি থাকবে না। তবে মঙ্গলবার Middle East Eye-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই দাবি নাকচ করে দেন।

ওই কর্মকর্তা স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও নেতানিয়াহু তুরস্ককে তথাকথিত ‘বোর্ড অফ পিস’ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আমন্ত্রণে রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ওই উচ্চপর্যায়ের কাঠামোয় যোগ দেন। আঙ্কারার মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে বাস্তবতা মাঠে নয়, বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ ইসরায়েলি অবস্থান।

গত বছরের অক্টোবর মাসে মিসরের শার্ম আল-শেখে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজা বিষয়ক একটি শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয়। সেখানে গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক তদারকির জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। ওই কাঠামোয় তুরস্ক ও কাতারকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইসরায়েলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-কে গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে। এই বোর্ড গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন, নিরাপত্তা তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রম সরাসরি পরিচালনা করবে।

আঙ্কারার দাবি, এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেছে গাজার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় তুরস্ক ও কাতারের সক্রিয় ভূমিকা অনিবার্য। চলতি মাসের শুরুতে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ককে বাদ দিয়ে গঠিত কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হবে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় পক্ষের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় তুরস্কই এই শান্তি উদ্যোগে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহু এই প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করলেও আঙ্কারার মূল্যায়ন হলো—মার্কিন সমর্থন ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনে তুরস্কের উপস্থিতি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:০১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
৭৩ বার পড়া হয়েছে

গাজায় সেনা মোতায়েন নিয়ে মুখোমুখি ইসরায়েল-তুরস্ক

আপডেট সময় ০৯:০১:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা বাহিনীতে তুরস্কের অংশগ্রহণ নিয়ে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-র সাম্প্রতিক বক্তব্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে আঙ্কারা। তুরস্ক স্পষ্ট করে জানিয়েছে, গাজায় সেনা মোতায়েনের বিষয়টি এখনো আলোচনার টেবিলেই রয়েছে এবং এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সোমবার ইসরায়েলের পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা শাসনে তুরস্ক বা কাতারের কোনো প্রভাব কিংবা সেনা উপস্থিতি থাকবে না। তবে মঙ্গলবার Middle East Eye-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই দাবি নাকচ করে দেন।

ওই কর্মকর্তা স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগেও নেতানিয়াহু তুরস্ককে তথাকথিত ‘বোর্ড অফ পিস’ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর আমন্ত্রণে রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ওই উচ্চপর্যায়ের কাঠামোয় যোগ দেন। আঙ্কারার মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে বাস্তবতা মাঠে নয়, বক্তব্যেই সীমাবদ্ধ ইসরায়েলি অবস্থান।

গত বছরের অক্টোবর মাসে মিসরের শার্ম আল-শেখে ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় গাজা বিষয়ক একটি শান্তি পরিকল্পনা গৃহীত হয়। সেখানে গাজা পুনর্গঠন ও প্রশাসনিক তদারকির জন্য একটি আন্তর্জাতিক কাঠামো গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যার নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্প নিজেই। ওই কাঠামোয় তুরস্ক ও কাতারকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইসরায়েলের প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান-কে গাজা এক্সিকিউটিভ বোর্ডের সদস্য করা হয়েছে। এই বোর্ড গাজার দৈনন্দিন প্রশাসন, নিরাপত্তা তদারকি ও পুনর্গঠন কার্যক্রম সরাসরি পরিচালনা করবে।

আঙ্কারার দাবি, এই কাঠামোর মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়ে গেছে গাজার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনায় তুরস্ক ও কাতারের সক্রিয় ভূমিকা অনিবার্য। চলতি মাসের শুরুতে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ককে বাদ দিয়ে গঠিত কোনো আন্তর্জাতিক বাহিনী ফিলিস্তিনিদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হবে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন—উভয় পক্ষের সঙ্গেই কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকায় তুরস্কই এই শান্তি উদ্যোগে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য শক্তি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহু এই প্রভাব খর্ব করার চেষ্টা করলেও আঙ্কারার মূল্যায়ন হলো—মার্কিন সমর্থন ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় গাজার নিরাপত্তা ও পুনর্গঠনে তুরস্কের উপস্থিতি এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481