ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ১৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বারবার ওই বাড়িতে গেলেও মালিকপক্ষ সহযোগিতা করেনি। থানায় জিডি করতে গেলে তা গ্রহণ না করে উল্টো পারিবারিক সমস্যার অভিযোগ তোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে হত্যা: নিখোঁজের ২১ দিন পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

রোজ খবর ডেস্ক

নিহত রোকেয়া রহমান ও তার মেয়ে ফাতেমা। ছবি: সংগৃহীত

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি |

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ২১ দিন পর এক মা ও তার কিশোরী মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ডায়াবেটিস বাজার এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে ফাতেমা (১৪)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ফাতেমা ওই এলাকার একটি বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাসায় না ফেরায় খোঁজ শুরু করেন তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকে মা ও মেয়ে দুজনই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর পুলিশ ও বাড়িওয়ালার কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পরে বাড়ির মালিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচে এবং বাথরুমের ছাদ থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত ম*রদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বারবার ওই বাড়িতে গেলেও মালিকপক্ষ সহযোগিতা করেনি। থানায় জিডি করতে গেলে তা গ্রহণ না করে উল্টো পারিবারিক সমস্যার অভিযোগ তোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তবে পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করা হচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গৃহশিক্ষিকাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রনি চৌধুরী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ফাতেমা ঘর থেকে বের হয়েছে, তবে এরপর তার গতিবিধি স্পষ্ট নয়। রোকেয়া রহমানকে গৃহশিক্ষিকার অন্য একটি ভাড়া বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। বাকি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হ*ত্যার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপদ মনে করে যে বাড়িতে সন্তানকে পড়তে পাঠানো হয়েছিল, সেখানেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবরে এলাকাবাসী গভীর শোক ও আত*ঙ্ক প্রকাশ করেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৬:৩০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬
৫৬ বার পড়া হয়েছে

নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বারবার ওই বাড়িতে গেলেও মালিকপক্ষ সহযোগিতা করেনি। থানায় জিডি করতে গেলে তা গ্রহণ না করে উল্টো পারিবারিক সমস্যার অভিযোগ তোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

কেরানীগঞ্জে মা-মেয়ে হত্যা: নিখোঁজের ২১ দিন পর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় ০৬:৩০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি |

ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ২১ দিন পর এক মা ও তার কিশোরী মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ডায়াবেটিস বাজার এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাট থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান (৩২) ও তার মেয়ে ফাতেমা (১৪)।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ ডিসেম্বর ফাতেমা ওই এলাকার একটি বাড়িতে গৃহশিক্ষিকার কাছে পড়তে যায়। নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাসায় না ফেরায় খোঁজ শুরু করেন তার মা রোকেয়া রহমান। এরপর থেকে মা ও মেয়ে দুজনই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ ছিলেন।

স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর পুলিশ ও বাড়িওয়ালার কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাননি। নিখোঁজের প্রায় তিন সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই বাড়ির একটি ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। পরে বাড়ির মালিকের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খাটের নিচে এবং বাথরুমের ছাদ থেকে মা ও মেয়ের অর্ধগলিত ম*রদেহ উদ্ধার করে।

নিহত রোকেয়া রহমানের স্বামী শাহীন আহমেদ বলেন, স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজতে তিনি বারবার ওই বাড়িতে গেলেও মালিকপক্ষ সহযোগিতা করেনি। থানায় জিডি করতে গেলে তা গ্রহণ না করে উল্টো পারিবারিক সমস্যার অভিযোগ তোলা হয় বলে তিনি দাবি করেন।

তবে পুলিশের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে কাজ করা হচ্ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গৃহশিক্ষিকাসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রনি চৌধুরী জানান, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ফাতেমা ঘর থেকে বের হয়েছে, তবে এরপর তার গতিবিধি স্পষ্ট নয়। রোকেয়া রহমানকে গৃহশিক্ষিকার অন্য একটি ভাড়া বাসা থেকে বের হতে দেখা গেছে। বাকি ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়নি। সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হ*ত্যার পেছনের কারণ উদ্‌ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

নিরাপদ মনে করে যে বাড়িতে সন্তানকে পড়তে পাঠানো হয়েছিল, সেখানেই এমন মর্মান্তিক ঘটনার খবরে এলাকাবাসী গভীর শোক ও আত*ঙ্ক প্রকাশ করেছে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481