ঢাকা ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দুদকের নথি অনুযায়ী, কেএসআর-এর নামে ২০১৭ সালে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখায় হিসাব খোলা হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৮৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা ও ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামি দুই এনজিওর হাজার কোটি টাকা লুট: মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শেষের পথে

রোজ খবর ডেস্ক

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় শেষ করেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান। মনিরুল ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, মনিরুল কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুই ইসলামি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক হাজার কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। তাঁর স্ত্রী, শ্যালক ও শ্যালিকার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, মনিরুল ও তাঁর পরিবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেছেন। তিনি এনজিও থেকে অনুদান আত্মসাৎ এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন।

এনজিওর অর্থ পরিচালনা ও লেনদেন

দুদকের নথি অনুযায়ী, কেএসআর-এর নামে ২০১৭ সালে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখায় হিসাব খোলা হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৮৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা ও ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এস এস এন্টারপ্রাইজ, ড্রিম স্ট্রাকচার, সাজা ট্রেডিংসহ নিকটাত্মীয়দের নামে ছোট ছোট কিন্তু পুনরাবৃত্ত লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরিবার ও সম্পদ

মনিরুলের স্ত্রী সায়লা ফারজানা ও শ্যালকের নামে মোট ৩৫টি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও ডিপিএসের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রমাণ মিলেছে।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই মনিরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

পালিয়ে থাকা মনিরুল

মনিরুল বর্তমানে ত্রিপুরার ধলাই জেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর মেয়ে লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। ভারতে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন এবং দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দল নিয়ে কটূক্তি করেন।

দুদক বলেছে, মনিরুলের সময় সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে তার প্রভাবের কারণে সম্পদ ও আয়‑ব্যয়ের অনুসন্ধান সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান অনুসন্ধান সম্পন্ন হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শিগগিরই হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ১০:৩২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
৬৬ বার পড়া হয়েছে

দুদকের নথি অনুযায়ী, কেএসআর-এর নামে ২০১৭ সালে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখায় হিসাব খোলা হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৮৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা ও ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসলামি দুই এনজিওর হাজার কোটি টাকা লুট: মনিরুলের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শেষের পথে

আপডেট সময় ১০:৩২:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রায় শেষ করেছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অনুসন্ধান। মনিরুল ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান।

দুদকের অনুসন্ধান অনুযায়ী, মনিরুল কুয়েত সোসাইটি ফর রিলিফ (কেএসআর) ও শারজাহ চ্যারিটি ইন্টারন্যাশনাল নামের দুই ইসলামি এনজিওর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এক হাজার কোটি ৩৫ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। তাঁর স্ত্রী, শ্যালক ও শ্যালিকার ব্যাংক হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

দুদক জানিয়েছে, মনিরুল ও তাঁর পরিবার ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের চেষ্টা করেছেন। তিনি এনজিও থেকে অনুদান আত্মসাৎ এবং ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ বৈধ করার চেষ্টা করেছেন।

এনজিওর অর্থ পরিচালনা ও লেনদেন

দুদকের নথি অনুযায়ী, কেএসআর-এর নামে ২০১৭ সালে কমার্শিয়াল ব্যাংক অব সিলনের উত্তরা শাখায় হিসাব খোলা হয়। ২০১৭ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৮৬৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা জমা ও ৮৬৭ কোটি ৯ লাখ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এস এস এন্টারপ্রাইজ, ড্রিম স্ট্রাকচার, সাজা ট্রেডিংসহ নিকটাত্মীয়দের নামে ছোট ছোট কিন্তু পুনরাবৃত্ত লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।

পরিবার ও সম্পদ

মনিরুলের স্ত্রী সায়লা ফারজানা ও শ্যালকের নামে মোট ৩৫টি ফ্ল্যাটের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, এফডিআর ও ডিপিএসের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা স্থানান্তরের প্রমাণ মিলেছে।

দুদকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, শিগগিরই মনিরুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।

পালিয়ে থাকা মনিরুল

মনিরুল বর্তমানে ত্রিপুরার ধলাই জেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় অবস্থান করছেন। তাঁর মেয়ে লন্ডনে পড়াশোনা করছেন। ভারতে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকেন এবং দেশের সরকার ও রাজনৈতিক দল নিয়ে কটূক্তি করেন।

দুদক বলেছে, মনিরুলের সময় সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ে তার প্রভাবের কারণে সম্পদ ও আয়‑ব্যয়ের অনুসন্ধান সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান অনুসন্ধান সম্পন্ন হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শিগগিরই হবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481