গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, ঢাকায় ডিবির একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে কোন মামলায় ও কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
পুলিশের গু*লিতে পা হারানো ছাত্রদল নেতা সাইফুল ইসলাম সাইফ আবারও গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাইফ প্রকাশ বার্মাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি দল। বিষয়টি মঙ্গলবার সকালে জানাজানি হয়।
গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করে সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ বলেন, ঢাকায় ডিবির একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে কোন মামলায় ও কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে—সে বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
এদিকে সাইফুল ইসলামের পরিবারের অভিযোগ, পায়ের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ঢাকায় গেলে ডিবি পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি হঠাৎ করে তাকে তুলে নিয়ে যান। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই বলেও দাবি পরিবারের। তাদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণেই অতীতে তাকে টার্গেট করা হয়েছিল।
সাইফুল ইসলামের ভাই, ছাত্রদল নেতা ও জুলাই যোদ্ধা মো. শাহীন বলেন, “আমরা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, কিন্তু কেউই আটকের বিষয়টি স্বীকার করেননি। এমনকি পরিবারের কাউকে মুনসুরাবাদ ডিবি কার্যালয়ে ঢুকতেও দেওয়া হচ্ছে না। কোন মামলায়, কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের জুন মাসে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তৎকালীন ওসি কামরুজ্জামান সোর্স দিয়ে ডেকে নিয়ে সাইফুল ইসলাম সাইফকে আটক করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে নগরের বায়েজিদ লিংক রোড এলাকার পাহাড়ে কথিত ব*ন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে দাবি করে পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার বাম পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর তিনি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে পড়েন। পরে বিএনপির পক্ষ থেকে তার কৃত্রিম পা স্থাপনে সহায়তা দেওয়া হয়।
পুলিশের গু*লিতে পা হারানো একজন রাজনৈতিক নেতাকে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় মানবাধিকার ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।




















