পাশাপাশি ভেজাল জমি ব্যবসা ও ঘটকালির আড়ালে নারী দিয়ে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সবুজবাগে প্রতারণার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা হেদায়েত উল্লা, অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ
ঢাকা
ঢাকার সবুজবাগ এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা হেদায়েত উল্লার বিরুদ্ধে প্রতারণা, অবৈধ চিকিৎসা কার্যক্রম ও নানা অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। উত্তর বাসাবো–সবুজবাগ এলাকার ‘মেট্রো মেডিকেল স্কিন ফেয়ার সেন্টার’-এর আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীরা।
এলাকার একাধিক সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে সরকারি নিষিদ্ধ ও নকল ওষুধ বিক্রি, অনুমোদনবিহীনভাবে রোগীর কাটা-ছেঁড়া ও সেলাই সংক্রান্ত চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা, রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভিজিট আদায়সহ নানা অনিয়ম চলছে। পাশাপাশি ভেজাল জমি ব্যবসা ও ঘটকালির আড়ালে নারী দিয়ে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আগে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতার নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালালেও সম্প্রতি দল পরিবর্তনের কথাও শোনা যাচ্ছে। তবে গোপন সূত্রের দাবি, এখনো তিনি আওয়ামী ঘরানার কিছু ব্যক্তির সঙ্গে যোগসাজশ রেখে কৌশলে তার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কয়েক মাস আগে তার নির্দেশে নারী টিমের একজন সদস্য বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকার মালামাল ও স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। এছাড়া গত ২ নভেম্বর ২০২৫ দুপুর আনুমানিক ১টা ৫৮ মিনিটে মো. ছানাউল্লাহ নামে এক সিনিয়র সাংবাদিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইমুর মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে কৌশলে ওই কলের রেকর্ড মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয় বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে কলটির রেকর্ড প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষিত আছে বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে, যার নম্বর ২৯৬ (তারিখ: ০৫/১১/২০২৫)। তদন্ত কর্মকর্তা একাধিকবার তলব করলেও হেদায়েত উল্লা হাজির হননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বরং তার পক্ষে একজন নারী প্রতিনিধি কথা বলছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, সবুজবাগ থানার নিকটবর্তী এলাকায় অবস্থান করেও কীভাবে তিনি প্রকাশ্যে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। নইলে তার প্রতারণার ফাঁদে আরও সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।




















