ভারতীয়দের ‘ওয়ার্ক পারমিট বাতিল’: ৪ দাবি ইনকিলাব মঞ্চের
দেশে চাকুরীরত ভারতীয়দের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিলসহ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির খুনি, পরিকল্পনা এবং সাহায্যকারীদের গ্রেফতারসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাতে শাহবাগে ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি থেকে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ৪ দফা দাবির ঘোষণা দেন। দাবি পূরণের জন্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে সময়ও বেঁধে দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
মঞ্চের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো, হাদির খুনি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত প্রত্যেককে বিচারের আওতায় আনতে হবে। দ্বিতীয় দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়দের কাজের অনুমতি বা ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব টিকিয়ে রাখতে এই পদক্ষেপ জরুরি বলে জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ।
সরকারের কাছে ইনকিলাব মঞ্চের তৃতীয় দাবি হলো, ভারত যদি শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অন্য নেতাদের ফেরত না দেয়, তবে দিল্লির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।
তাদের চতুর্থ এবং শেষ দাবি হচ্ছে, বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যারা পরস্পরবিরোধী মন্তব্য করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছেন, তাদের চাকরিচ্যুত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা, সেনাবাহিনীতে আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ অনেকে রয়েছেন বলে দাবি করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বলেন, ‘চার দফা দাবির মধ্যে আগামী ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির খুনিদের গ্রেফতার করে বিচার সম্পন্ন করা আমাদের প্রধান দাবি। বাকি তিন দাবিও এই অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই নিশ্চিত করতে হবে।’
এদিকে রোববার রাতেই ‘সর্বাত্মক অবরোধ’ কর্মসূচি প্রত্যাহার করার কথা জানায় ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করে সোমবার দুপুর ২টায় শাহবাগে দেশের সমস্ত স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসার পড়ুয়াদের সমবেত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইনিকিলাব মঞ্চ। সেইসাথে বিচার না-হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকার রাস্তায় গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন হাদি। সরকারি উদ্যোগে তাকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু ছ’দিন পর তার মৃত্যু হয়। এর পরেই সারাদেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হাদি হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রাথমিকভাবে যাদের নাম এসেছে, তারা সবাই ভারতে পালিয়ে গেছে বলে জানিয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা।




















