আসন্ন জকসু নির্বাচনকে ঘিরে অভিনব প্রচারণায় মুখর ক্যাম্পাস
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচন–২০২৫। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই নির্বাচন হওয়ায় প্রার্থী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীরা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নানান সৃজনশীল ও ব্যতিক্রমী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন, যা ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
ক্যাম্পাসজুড়ে দেখা যাচ্ছে ব্যালট নম্বরসংবলিত রঙিন লিফলেট, কার্ড ও প্রতীকভিত্তিক প্রচারণা সামগ্রী। বিশেষ করে মীনা কার্টুন, সিসিমপুর, ডোরেমনসহ বিভিন্ন জনপ্রিয় কার্টুন চরিত্রের পাশাপাশি প্রজাপতি, বিড়াল, খরগোশ এমনকি বোতলের আকৃতিতে তৈরি কার্ড শিক্ষার্থীদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি করেছে।
এ বিষয়ে সদস্য পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হোসাইন বলেন, “আমি ইচ্ছাকৃতভাবেই ভিন্নধর্মী একটি প্রচারণা বেছে নিয়েছি। এ বছর লং মার্চ টু যমুনা আন্দোলনের সময় আমি দীর্ঘ সময় নিখোঁজ ছিলাম। সেই সময় ‘বোতল কাণ্ড’কে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা যেভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা আমার জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই জকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা পাই।”
তিনি আরও জানান, বোতল কাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আন্দোলনের দাবিগুলো সামনে আসে। তাই প্রতীকী অর্থে বোতলকে প্রচারণার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তবে কাউকে খাটো করা বা হেয় প্রতিপন্ন করা তার উদ্দেশ্য নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সর্বকনিষ্ঠ ব্যাচের কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মুশফিকুর রহমান জানান, তিনি তার প্রচারণায় ডোরেমন কার্টুনকে প্রতীক হিসেবে নিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ডোরেমন ছোটবেলা থেকেই আমাদের সবার প্রিয়। কার্টুনটিতে আমরা দেখি, ডোরেমন তার পকেটের গ্যাজেট দিয়ে নানা সমস্যা সমাধান করে। ঠিক তেমনিভাবে আমি যদি জকসুতে নির্বাচিত হতে পারি, শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধানে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”
প্রচারণা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ইতিবাচক সাড়া। এক শিক্ষার্থী জানান, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু এটি প্রথম জকসু নির্বাচন, তাই পুরো বিষয়টাই আমাদের কাছে নতুন ও আনন্দের। চারদিকে যে রকম সৃজনশীল প্রচারণা চলছে, তা সত্যিই ভালো লাগছে। আমি নিজে অনেক প্রার্থীর কার্ড সংগ্রহ করছি স্মৃতি হিসেবে।”
সব মিলিয়ে আসন্ন জকসু নির্বাচন শুধু একটি ভোটের আয়োজন নয়, বরং জবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রূপ নিচ্ছে এক উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায়।




















