২০ কোটি মানুষকে জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য প্রধানমন্ত্রীর
২০ কোটি মানুষকে জনশক্তিতে রূপান্তরের লক্ষ্য, কৃষি-শিল্পে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর প্রধানমন্ত্রীর
নিউজ ডেস্ক
দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতির প্রধান শক্তিতে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। মানুষের শ্রম, মেধা, দক্ষতা ও কর্মক্ষমতাকে উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করে কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের বিস্তারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (৯ আগস্ট) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে সহায়তা ও নতুন ঘরের চাবি বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে দেখলে চলবে না। এই বিপুল জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। তাদের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে উৎপাদন বাড়বে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে চাই।’
কৃষিকে উৎপাদনমুখী করার পরিকল্পনা
প্রধানমন্ত্রী দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। কৃষকদের উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
কৃষকের পাশে দাঁড়াতে কৃষক কার্ডের ব্যবস্থার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর মতে, কৃষককে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা গেলে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং দেশের খাদ্য ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।
শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব
শুধু কৃষির ওপর নির্ভর করে দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়—এমন বাস্তবতার কথা তুলে ধরে শিল্প খাতের সম্প্রসারণের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে হবে। শিল্পের বিস্তার ঘটলে একদিকে যেমন উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ করে উৎপাদনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকারের অন্যতম দায়িত্ব হিসেবে তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—শুধু চাকরির পেছনে ছুটে বেড়ানো নয়, বরং তরুণদের দক্ষতা ও উদ্যোগকে কাজে লাগিয়ে নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে।
জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন নয়
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল সরকারি উদ্যোগে সম্ভব নয়। উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি জনগণের শ্রম, মেধা ও দক্ষতাকে উৎপাদনশীল কাজে কাজে লাগাতে হবে।
মানুষের কর্মক্ষমতাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে দেশের উৎপাদন বাড়বে এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ‘পারিবারিক কার্ড’
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার বিষয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পরিবারের নারীদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে ঘরে ঘরে পারিবারিক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, এর পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ১৬ আগস্ট থেকে এর কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি বছর দেশের প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।
সরকারের পরিকল্পনায় নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়।
উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—দেশের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে মানুষের কর্মক্ষমতা, কৃষি উৎপাদন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা গেলে দেশের উৎপাদন সক্ষমতা যেমন বাড়বে, তেমনি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরে শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ঘটিয়ে কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।
সরকারের লক্ষ্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন নয়; মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জনগণের সক্ষমতাকে দেশের উন্নয়নের মূল শক্তিতে পরিণত করা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যে সেই লক্ষ্যই প্রতিফলিত হয়েছে—২০ কোটি মানুষের কর্মক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে ৪০ কোটি হাতকে উৎপাদনের শক্তিতে পরিণত করা এবং কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী অর্থনীতি গড়ে তোলা।



















