আমি বন্দি কারাগারে’ গানের শিল্পী এবার বাস্তবেই কারাগারে
চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী মুজিব পরদেশী
‘আমি বন্দি কারাগারে’ গানের শিল্পী এবার বাস্তবেই কারাগারে; একসময় ছিলেন বিসিএস ক্যাডার ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা লোকসংগীতের একসময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশী চেক ডিজঅনার মামলায় কারাগারে গেছেন। আশির দশকে তার গাওয়া কালজয়ী গান ‘আমি বন্দি কারাগারে’ নতুন করে আলোচনায় এসেছে, কারণ গানটির শিরোনামের সঙ্গে তার বর্তমান পরিস্থিতির মিল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে তার কারাগারে যাওয়ার কারণ একটি বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহর আদালতে তাকে হাজির করা হলে শুনানি শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত সূত্র জানায়, পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করলে প্রসিকিউশন কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। শুনানিতে বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১০ লাখ টাকার একটি চেক ডিজঅনার হওয়ার ঘটনায় ২০২২ সালে মাগুরায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেন ইদ্রিস আলী বিশ্বাস। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ আদালত মুজিব পরদেশীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। রায়ের পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ না করায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। পরে সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, শুনানির সময় মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। অন্যদিকে বাদীপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, দণ্ড ঘোষণার পর দীর্ঘদিন তিনি আদালতের বাইরে ছিলেন। এ অবস্থায় জামিন দিলে বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আদালত এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। আশির দশকে বাংলা লোকসংগীতের অন্যতম জনপ্রিয় শিল্পী হিসেবে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। হাসান মতিউর রহমানের কথা ও সুরে তার গাওয়া ‘আমি বন্দি কারাগারে’ গানটি তাকে ঘরে ঘরে পরিচিত করে তোলে। পরে দর্শকপ্রিয় চলচ্চিত্র ‘বেদের মেয়ে জোছনা’-তেও গানটি ব্যবহৃত হয়, যা তার জনপ্রিয়তাকে আরও বিস্তৃত করে।
সংগীতজীবনের পাশাপাশি তিনি ছিলেন উচ্চশিক্ষিত একজন সরকারি কর্মকর্তা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর বিসিএস ক্যাডার হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। কর্মজীবনে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএফডিসি) সংগীত পরিচালক এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
এদিকে মুজিব পরদেশীর কারাগারে যাওয়ার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই তার সংগীতজীবনের অবদান স্মরণ করে আবেগঘন মন্তব্য করছেন, আবার অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে আদালতের রায় ও বিচারিক প্রক্রিয়াকে সম্মান জানানোই আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। ফলে একজন শিল্পীর সাংস্কৃতিক অবদান এবং তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া—দুটি বিষয়কে আলাদাভাবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।









