দীর্ঘ ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার: জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডিত আসামি মোজাফফর হোসেন আটক
দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে আইনের আওতায় এসেছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অবসরপ্রাপ্ত মেজর মো. মোজাফফর হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) পরিচালিত একটি বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বহু বছর ধরে পলাতক থাকা এই দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছিল। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও নজরদারির পর সাম্প্রতিক অভিযানে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এখনো তার অবস্থান, আটকের স্থান কিংবা অভিযানের কৌশল সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আটকের পর প্রচলিত আইন অনুযায়ী সব ধরনের প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। পরে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী তাকে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযান এবং পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে। বিশেষ করে কীভাবে তাকে শনাক্ত করা হয়েছে, কতদিন ধরে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে—এসব বিষয়ে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বহু বছর ধরে পলাতক থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আইনের আওতায় আনা বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও আইনের শাসনের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও এটি একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে একদল বিদ্রোহী সেনা কর্মকর্তার হাতে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে একাধিক আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়। সময়ের ব্যবধানে কয়েকজনের দণ্ড কার্যকর হলেও কিছু আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। মোজাফফর হোসেনের আটক সেই দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এ ঘটনাকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে আরও তথ্য প্রকাশ হলে মামলার পরবর্তী অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।











