ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অপসারণে পদক্ষেপ, কংগ্রেসে আসছে নতুন বিল

রোজখবর ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাসকিন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সহকর্মী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ উদ্যোগের কথা জানান।

মার্কিন কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নির্ধারণে কমিশন” শীর্ষক বিলটি শিগগিরই কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে। এর আগে ২০২০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রথম মেয়াদকালে রাসকিন একই ধরনের একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন।

২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা
সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ট্রাম্পকে অপসারণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী (25th Amendment) প্রয়োগের আলোচনা জোরালো হয়েছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সমর্থনে তাকে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে সরানোর ব্যবস্থা রয়েছে, যা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।

বিতর্কিত মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি ট্রাম্পের এক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না করে, তাহলে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।” ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তার এ মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিল পাসের সম্ভাবনা কম
তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন, যিনি ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত, এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করতে পারেন।

এর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাবও রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আটকে দেয়।

প্রস্তাবিত কমিশনের কাঠামো
প্রস্তাবিত আইনে ১৭ সদস্যের একটি দ্বিদলীয় কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, অথবা মাদক বা অ্যালকোহলসহ অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হলে, এই কমিশন বিষয়টি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত দেবে।

অভিশংসনের পূর্ব ইতিহাস
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুবার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে তিনি খালাস পান। সাম্প্রতিক ইরান অভিযান এবং এর লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আবারও তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টি আলোচনায় আনছে, যদিও দলের ভেতরে এ বিষয়ে একক অবস্থান নেই।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
৪ বার পড়া হয়েছে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট অপসারণে পদক্ষেপ, কংগ্রেসে আসছে নতুন বিল

আপডেট সময় ০২:১৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনে অক্ষমতা নির্ধারণে একটি বিশেষ কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছেন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা জেমি রাসকিন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সহকর্মী ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ উদ্যোগের কথা জানান।

মার্কিন কংগ্রেসের বিচারবিষয়ক কমিটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নির্ধারণে কমিশন” শীর্ষক বিলটি শিগগিরই কংগ্রেসে উত্থাপন করা হবে। এর আগে ২০২০ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রথম মেয়াদকালে রাসকিন একই ধরনের একটি বিল উত্থাপন করেছিলেন।

২৫তম সংশোধনী নিয়ে আলোচনা
সাম্প্রতিক সময়ে কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ট্রাম্পকে অপসারণের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী (25th Amendment) প্রয়োগের আলোচনা জোরালো হয়েছে। এই সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সমর্থনে তাকে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে সরানোর ব্যবস্থা রয়েছে, যা অভিশংসন (ইমপিচমেন্ট) প্রক্রিয়া থেকে ভিন্ন।

বিতর্কিত মন্তব্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি ট্রাম্পের এক মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত না করে, তাহলে “একটি পুরো সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।” ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযানের পর এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় তার এ মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

বিল পাসের সম্ভাবনা কম
তবে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদে এই বিল পাস হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন, যিনি ট্রাম্পের দৃঢ় সমর্থক হিসেবে পরিচিত, এ ধরনের উদ্যোগের বিরোধিতা করতে পারেন।

এর আগে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ বন্ধে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাবও রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে আটকে দেয়।

প্রস্তাবিত কমিশনের কাঠামো
প্রস্তাবিত আইনে ১৭ সদস্যের একটি দ্বিদলীয় কমিশন গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে, অথবা মাদক বা অ্যালকোহলসহ অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হলে, এই কমিশন বিষয়টি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত দেবে।

অভিশংসনের পূর্ব ইতিহাস
উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে দুবার অভিশংসনের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে প্রতিবারই রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত সিনেটে তিনি খালাস পান। সাম্প্রতিক ইরান অভিযান এবং এর লক্ষ্য নির্ধারণে ব্যর্থতা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ার পর ডেমোক্র্যাটদের একটি অংশ আবারও তাকে ক্ষমতা থেকে সরানোর বিষয়টি আলোচনায় আনছে, যদিও দলের ভেতরে এ বিষয়ে একক অবস্থান নেই।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481