ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফানুস-আতশবাজি নিষিদ্ধ, নববর্ষে কড়াকড়ি নির্দেশনা

রোজখবর ডেস্ক

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনকে ঘিরে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকেল ৫টার পর অনুষ্ঠানস্থলে নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত নববর্ষের সব অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করতে পারবেন। এছাড়া শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ যোগ দিতে পারবেন না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন উড়ানো এবং ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের ৩০০ ফুটের মধ্যে মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে বসানো হবে। ইভ টিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্র রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় পহেলা বৈশাখ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপলোডকারীর তথ্য
আপডেট সময় ০৯:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
১৮ বার পড়া হয়েছে

ফানুস-আতশবাজি নিষিদ্ধ, নববর্ষে কড়াকড়ি নির্দেশনা

আপডেট সময় ০৯:১৩:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদ্‌যাপনকে ঘিরে দেশব্যাপী নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠান সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শেষ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিকেল ৫টার পর অনুষ্ঠানস্থলে নতুন করে কাউকে প্রবেশ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর রমনা পার্ক, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, হাতিরঝিল ও রবীন্দ্র সরোবরসহ দেশব্যাপী আয়োজিত নববর্ষের সব অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের আয়োজিত বৈশাখী শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীরা মুখোশ পরে অংশ নিতে পারবেন না, তবে হাতে বহন করতে পারবেন। এছাড়া শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার পর মাঝপথে কেউ যোগ দিতে পারবেন না।

নিরাপত্তার স্বার্থে দেশব্যাপী ফানুস ওড়ানো, আতশবাজি ফোটানো, গ্যাস বেলুন উড়ানো এবং ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থলের ৩০০ ফুটের মধ্যে মোটরসাইকেল ও গাড়ির রেসিং বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি, ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে বসানো হবে। ইভ টিজিং, ছিনতাই ও পকেটমার প্রতিরোধে সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে। বড় অনুষ্ঠানস্থলগুলোতে ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হবে। রমনা লেকে দুর্ঘটনা এড়াতে ডুবুরি দল মোতায়েন থাকবে।

এছাড়া পহেলা বৈশাখের দিন (১৪ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার টিএসসি মেট্রোরেল স্টেশন বন্ধ রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্টিকারবিহীন কোনো যানবাহন প্রবেশ করতে পারবে না। সাধারণ মানুষকে ব্যাগ, ব্যাকপ্যাক, দেশলাই বা লাইটার বহন না করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে তাদের পরিচয়পত্র রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে, সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় পহেলা বৈশাখ উৎসব শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদ্‌যাপিত হবে।


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/rojkhobor/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481