দলীয় প্রতীক ছাড়াই হবে এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিতামূলক ও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক বাতিল করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে সংসদ অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর-এর পক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিলটি উত্থাপন করেন। সংক্ষিপ্ত আলোচনা শেষে স্পিকার কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি পাসের ঘোষণা দেন।
বিলটি পাসের সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা ‘না’ ভোট দেন। এর প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। তবে অধিবেশনে বিরতির পর তারা পুনরায় সংসদে যোগ দেন।
বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। বর্তমানে নতুন করে কী বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সরকারের কাছে জানতে চান তিনি। তার অভিযোগ, এই আইনের মাধ্যমে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা স্থানীয় সরকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলীয় প্রতীক বাতিলের ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক হবে। এতে প্রার্থীরা দলীয় পরিচয়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, যা স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক বিভাজন কমাতে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে। একদিকে এটি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যক্ষ প্রভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

















