শেষ মুহূর্তেও আপত্তি টিকল না—নিষিদ্ধ আ.লীগ, পাস হলো বিল
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার বিধান বহাল রেখে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল ২০২৬ পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বুধবার কণ্ঠভোটে বিলটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। পরে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়। এর মাধ্যমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ কার্যত আইন হিসেবে বহাল থাকল।
সংসদে বিল উত্থাপনের সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেন। দফাওয়ারী কোনো সংশোধনী প্রস্তাব না থাকায় বিলটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
তবে বিল পাসের আগে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চান। তিনি বলেন, বিল-সংক্রান্ত তুলনামূলক তথ্যপত্র খুব অল্প সময় আগে হাতে পাওয়ায় তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে আরও সময় প্রয়োজন।
জবাবে স্পিকার জানান, আপত্তি জানানোর জন্য নির্ধারিত সময় রয়েছে এবং সে সময় কোনো আপত্তি উত্থাপিত হয়নি। ফলে বিলের এই পর্যায়ে এসে আর আপত্তি গ্রহণের সুযোগ নেই।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলটি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত সংগঠন নিষিদ্ধকরণ সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনের সংশোধনী। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধনও স্থগিত রেখেছে।
তিনি আরও বলেন, এই আইনের আলোকে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে, যাতে সংগঠনভিত্তিক বিচারের বিধান যুক্ত করা যায়।
শেষপর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাসের সুপারিশ করে সংসদের বিশেষ কমিটি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা শুধু অবৈধই নয়, বরং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পথ আরও সুস্পষ্ট হবে।

















