সরবরাহ স্বাভাবিক, তবে ক্রুড অয়েলে বাড়ছে শঙ্কা
২৫ দিনে বন্দরে ৩০ জ্বালানিবাহী জাহাজ
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি ও কৌশলগত নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের জ্বালানি সরবরাহে এখনো বড় ধরনের সংকট দেখা দেয়নি। গত ২৫ দিনে চট্টগ্রাম বন্দর-এ ভিড়েছে ৩০টি জ্বালানিবাহী জাহাজ, যা জ্বালানি খাতে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।
বন্দর সূত্র জানায়, ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সময়ে এসব জাহাজ বন্দরে আসে। এর মধ্যে ২৭টি ইতোমধ্যে জ্বালানি খালাস করে ফিরে গেছে। বর্তমানে দুটি জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম চলছে। আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ছয়টি জাহাজ বন্দরে ভিড়বে। এসব জাহাজে এলএনজি, এলপিজি ও গ্যাস অয়েল রয়েছে।
তবে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও উদ্বেগ বাড়ছে অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) নিয়ে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল)-এর হাতে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার টন ক্রুড অয়েল মজুত রয়েছে, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ১০ থেকে ১২ দিন চলা সম্ভব।
প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টন তেল পরিশোধন করছে ইআরএল, যদিও এর সক্ষমতা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন। সর্বশেষ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি এক লাখ টন ক্রুড অয়েল সরবরাহ পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি-তে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তবে ইরান বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশের জন্য সীমিতভাবে এই নৌপথ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পুরোপুরি ব্যাহত হয়নি।
বন্দর সূত্রে আরও জানা গেছে, এ সময়ে আসা জাহাজগুলোর মধ্যে ছয়টিতে এলএনজি, আটটিতে এলপিজি, পাঁচটিতে গ্যাস অয়েল এবং চারটিতে হাই সালফার ফুয়েল এসেছে। এসব জ্বালানি কাতার, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, ওমান, ভারত ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল বোঝাই একটি জাহাজ আটকে আছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসার কথা থাকা আরেকটি চালানের সময়সূচিও বাতিল হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব জাহাজ দেশে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, দেশে বছরে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল এবং বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত তেল বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও ক্রুড অয়েলের আমদানি দীর্ঘদিন ব্যাহত হলে দেশের জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



















